গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নাম | বয়স | নিয়ন্ত্রিত খাবার
সায়েম | ৫৪ | লবণ, ডিম, গরুর মাংস
যাবের | ৬৩ | চিনি, ভাত, মিষ্টি ফল

  1. ক)

    পথ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “রোগের ভিন্নতায় পথ্যের ধরনও ভিন্ন হয়”— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সায়েম সাহেবের রোগের লক্ষণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সায়েম সাহেব ও যাবের সাহেবের পথ্য ব্যবস্থাপনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রোগীর রোগ নিরাময়, স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য পুষ্টি উপাদান ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে যে বিশেষ খাদ্য ব্যবস্থা করা হয়, তাকে পথ্য (Diet Therapy) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিভিন্ন রোগের কারণ, শরীরের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন এবং বিপাকীয় ক্ষতি একরকম হয় না। যেমন—উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগীর খাদ্যে সোডিয়াম বা লবণ এবং কোলেস্টেরলযুক্ত চর্বি কমাতে হয়। অন্যদিকে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে শর্করা ও চিনি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আবার কিডনি রোগে প্রোটিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক হয়। তাই রোগের প্রকৃতি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি ও পুষ্টি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পথ্যের ধরন ও উপাদানে ভিন্নতা আনতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সায়েম সাহেবের বয়স ৫৪ বছর এবং তার নিয়ন্ত্রিত খাবার হলো লবণ, ডিম ও গরুর মাংস। এই ধরনের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ মূলত উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) এবং হৃদরোগের (Cardiovascular Disease) ক্ষেত্রে নির্দেশ করা হয়।

    সায়েম সাহেবের সম্ভাব্য রোগ অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের প্রধান প্রধান লক্ষণগুলো নিম্নরূপ:
    ১. প্রায়ই মাথা ঘোরা এবং মাথার পেছনের দিকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া।
    ২. অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা বা শ্বাসকষ্ট হওয়া।
    ৩. বুক ধড়ফড় করা এবং মাঝে মাঝে বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হওয়া।
    ৪. অনিদ্রা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শারীরিক অস্বস্তি ও অবসাদ বোধ করা।
    ৫. দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা চোখে অন্ধকার দেখা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সায়েম সাহেব উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে এবং যাবের সাহেব (বয়স ৬৩, নিয়ন্ত্রিত খাদ্য: চিনি, ভাত, মিষ্টি ফল) ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। উভয়ের পথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে:

    ১. সায়েম সাহেবের পথ্য ব্যবস্থাপনা:

    • সোডিয়াম বা অতিরিক্ত লবণ খাওয়া সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে, কারণ সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
    • গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডিমের কুসুম ইত্যাদি সম্পৃক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার রক্তনালীতে চর্বি জমিয়ে চাপ বাড়ায়, তাই এগুলো বাদ দিতে হবে।
    • তার খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত শাকসবজি, কম চর্বিযুক্ত মাছ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ তাজা ফলমূল বেশি রাখা প্রয়োজন।

    ২. যাবের সাহেবের পথ্য ব্যবস্থাপনা:

    • ডায়াবেটিসে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়, তাই চিনি, মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং মিষ্টি ফল পরিহার করতে হবে।
    • সরল শর্করার পরিবর্তে জটিল শর্করা (যেমন—লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি) পরিমাণমতো মেপে খেতে হবে।
    • উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, মেথি, করলা, শাকসবজি ইত্যাদি গ্রহণ বিপাক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সায়েম সাহেবের ক্ষেত্রে চর্বি ও সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণ মুখ্য বিষয়, আর যাবের সাহেবের ক্ষেত্রে ক্যালরি ও শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণই পথ্য ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন