ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মহিলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ক্রিস্টিন মেডোনা অধিকার রক্ষায় নারী আন্দোলনের কার্যকর ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে একটি সময় ছিল যখন কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। তাদের কোনো অধিকার ছিল না। একজন পুরুষ একই সাথে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারত। তারা `জোর যার মুল্লুক তার' এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিল।

  1. ক)

    'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    উটকে কেন মরুভূমির জাহাজ বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি আরবের নারীদের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'জোর যার মুল্লুক তার'- উক্তিটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ 'সৌভাগ্যবান' বা 'সুখী' (সবুজ-শ্যামল অঞ্চল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উট মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশের সাথে চমৎকারভাবে অভিযোজিত। এটি পানি ছাড়া একটানা বহু দিন চলতে পারে এবং এর চওড়া নরম পা বালুর মধ্যে দেবে যায় না। এছাড়া মরুভূমির তীব্র গরম ও বালুঝড় সহ্য করে ভারী মালামাল ও যাত্রী নিয়ে সহজেই দীর্ঘ মরুভূমি পারাপার করতে পারে বলে উটকে রূপকভাবে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি বা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের আরব নারীদের চরম দুর্দশাগ্রস্ত, অধিকারহীন ও অবহেলিত সামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে।

    জাহেলি যুগে আরবে সমাজে নারীদের কোনো সামাজিক বা আইনি অধিকার ছিল না। তাদেরকে কোনো সম্মানজনক সত্তা মনে না করে ভোগ-বিলাসের পণ্যসামগ্রী এবং সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। বহুবিবাহের কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না এবং পুরুষেরা যথেচ্ছ নারী গ্রহণ বা বর্জন করতে পারত। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় ছিল—কন্যা সন্তানের জন্মকে অত্যন্ত অপমানজনক ও লজ্জার মনে করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে নবজাতক কন্যাসন্তানকে জীবন্ত মাটির নিচে পুঁতে হত্যা করা হতো।

    উদ্দীপকে ক্রিস্টিন মেডোনার বক্তব্যে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া, নারীদের অধিকারহীনতা এবং পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত বহুবিবাহের যে বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা ইসলামপূর্ব আরবের নারীদের সেই বর্বর ও করুণ দশাকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'জোর যার মুল্লুক তার'—উক্তিটি প্রাক-ইসলামি জাহেলি আরবের চরম রাজনৈতিক অরাজকতা, আইনহীনতা ও গোত্রীয় সহিংসতার বাস্তব রূপকে যথার্থভাবে নির্দেশ করে।

    ইসলামপূর্ব আরবে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার, সুনির্দিষ্ট সংবিধান বা বিচারব্যবস্থা ছিল না। গোটা আরব সমাজ বিভিন্ন স্বাধীন গোত্রে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি গোত্র কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পরিচালিত হতো। দুর্বলদের রক্ষা করার মতো কোনো রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল না; ফলে সমাজে যার বাহুবল বা লোকবল বেশি ছিল, সে-ই প্রাধান্য বিস্তার করত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোত্রে গোত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ত, যা বছরের পর বছর স্থায়ী হতো (যেমন—বাসুস যুদ্ধ, বুয়াস যুদ্ধ, হরবুল ফিজার ইত্যাদি)। কোনো ন্যায়নীতির তোয়াক্কা না করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বল গোত্রকে পরাভূত ও লুণ্ঠন করাই ছিল স্বাভাবিক প্রথা।

    সুতরাং, জাহেলি যুগের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে শক্তিমানরাই সমাজ নিয়ন্ত্রণ করত এবং দুর্বলরা তাদের অন্যায়ের শিকার হতো। উদ্দীপকের উক্তিটি প্রাক-ইসলামি আরবের সেই গোত্রকেন্দ্রিক অরাজক ও শক্তিভিত্তিক সমাজব্যবস্থারই ঐতিহাসিক প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন