ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
নুরজাহানের প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
'বাবর-নামা' কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের স্থাপত্যকর্মের নিদর্শন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
স্থাপত্য শিল্পে উক্ত শাসকের অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নুরজাহানের প্রকৃত নাম মেহেরুন্নিসা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বাবর-নামা' হলো মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের রচিত আত্মজীবনী। এটি মূল তুর্কি ভাষায় (চাগতাই তুর্কি) রচিত হয়েছিল এবং এর মূল নাম 'তুজুক-ই-বাবরি'।
এ গ্রন্থে বাবর তাঁর জীবনের উত্থান-পতন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন যুদ্ধবিগ্রহের বর্ণনার পাশাপাশি তৎকালীন ভারতবর্ষের ভূ-প্রকৃতি, ঋতুচক্র, ফলমূল, উদ্ভিদ, পশুপাখি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার নিখুঁত ও প্রাণবন্ত বর্ণনা দিয়েছেন। ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি দলিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি আগ্রার বিশ্ববিখ্যাত 'তাজমহল', যা মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অনন্য স্থাপত্যকীর্তির নিদর্শন।
সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম (মমতাজ মহল)-এর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য যমুনা নদীর তীরে এই অপূর্ব সমাধিস্তম্ভটি নির্মাণ করেন। ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রায় বাইশ বছর পর এর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। প্রধান স্থপতি ওস্তাদ আহমদ লাহোরি ও ওস্তাদ ঈসার তত্ত্বাবধানে রাজস্থানের মাকরানা থেকে আনা শুভ্র মার্বেল পাথর দিয়ে এটি নির্মিত হয়। চারকোণে চারটি সুউচ্চ মিনার এবং মনোরম পারস্য-মুঘল রীতির উদ্যান তাজমহলকে বিশ্বস্থাপত্যের এক অনন্য বিস্ময়ে রূপ দিয়েছে। সুতরাং, চিত্রটি নির্দ্বিধায় সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্যকর্মকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল স্থাপত্যের ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালকে স্বর্ণযুগ বলা হয় এবং স্থাপত্য শিল্পে তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয়। এজন্য তাঁকে 'প্রকৌশলী সম্রাট' বা 'Prince of Builders' বলা হয়।
সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য ছিল শ্বেতপাথরের ব্যাপক ব্যবহার, সূক্ষ্ম জালিকাজ, পিছুরা (Pietra Dura) বা রত্নখচিত অলঙ্করণ এবং প্রতিসাম্যতার অপূর্ব সমন্বয়। তাঁর অবদানসমূহ নিম্নরূপ:
১. তাজমহল: পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম এই স্মৃতিসৌধটি তাঁর স্থাপত্যপ্রীতির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। শুভ্র মার্বেলের এই সৌধ স্থাপত্যশৈলীর চরম উৎকর্ষ প্রকাশ করে।
২. দিল্লি ও আগ্রার দুর্গ: তিনি আগ্রা দুর্গের অভ্যন্তরে মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, খাস মহল ও শীশ মহল নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি দিল্লিতে এক নতুন রাজধানী 'শাহজাহানাবাদ' স্থাপন করেন এবং সেখানে ঐতিহাসিক 'লালকেল্লা' (Red Fort) নির্মাণ করেন।
৩. জামে মসজিদ: দিল্লির লালকেল্লার কাছে অবস্থিত ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও চিত্তাকর্ষক 'জামে মসজিদ' তাঁরই সৃষ্টি।
৪. ময়ূর সিংহাসন: রত্নখচিত বিশ্ববিখ্যাত 'ময়ূর সিংহাসন' (Takht-i Tāūs) নির্মাণ তাঁর রুচি ও ঐশ্বর্যের অনন্য প্রকাশ।
৫. উদ্যান ও জলাশয়: তিনি লাহোরে মনোরম শালিমার উদ্যান সম্প্রসারণ ও নির্মাণ করেন।পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট শাহজাহানের সময়ে মুঘল স্থাপত্যিক নান্দনিকতা ও জাঁকজমক সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়। তাঁর অমর সৃষ্টিসমূহ আজ বিশ্বঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও