মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-২: দিয়া তার মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকৃতির বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ছবি আঁকে। তার চাওয়া পাওয়ার মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি। সবার উপর প্রভাব খাটাতেও সে পছন্দ করে।

- ক)(1)
Edward Spranger মূল্যবোধকে কয়ভাগে ভাগ করেছেন?
- খ)(2)
মূল্যবোধকে সমাজের চালিকা শক্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
ব্যস্তি মূল্যবোধ গঠনে দৃশ্যকল্প '১' এর চিত্রটি কীভাবে ভূমিকা রাখে?
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত দিয়ার মূল্যবোধগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এডওয়ার্ড স্প্রেঙ্গার (Edward Spranger) মূল্যবোধকে ৬ ভাগে ভাগ করেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ মানুষের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে বলে একে সমাজের চালিকা শক্তি বলা হয়।
মূল্যবোধ হলো সমাজের মানুষের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত এবং ন্যায়-অন্যায় বোধের একটি স্থায়ী মানদণ্ড। এটি সমাজস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করে। সমাজের নীতি ও আদর্শ এই মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই মূল্যবোধকে সমাজের চালিকা শক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তি মূল্যবোধ গঠনে দৃশ্যকল্প-১ এর চিত্রটি 'সঙ্গীদলের বা সমবয়সীদের ভূমিকা'কে নির্দেশ করে, যা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের চিত্রটিতে দেখা যাচ্ছে একদল শিশু একসাথে চাকা ঘুরিয়ে বা দৌড়ে খেলাধুলা করছে। এটি শিশুদের সঙ্গীদল বা খেলাধুলার সাথীদের (peer group) সাথে মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
মূল্যবোধ গঠনে সঙ্গীদল বা খেলার সাথীদের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সহযোগিতা ও সহমর্মিতা: খেলার মাধ্যমে শিশুরা একে অপরের সাথে মিলেমিশে চলা, ভাগাভাগি করা এবং সহযোগিতার মনোভাব অর্জন করে।
২. নিয়মানুবর্তিতা: খেলার নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার মধ্য দিয়ে শিশুরা শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার মূল্যবোধ শেখে।
৩. সহনশীলতা ও নেতৃত্ব: খেলায় হার-জিত মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং দলের অন্যদের নেতৃত্ব দেওয়া বা অন্যের মতকে সম্মান করার গুণাবলী তৈরি হয়।সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এর মতো দলগত খেলাধুলা ও সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমে ব্যক্তির মাঝে আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত দিয়ার আচরণের মধ্যে এডওয়ার্ড স্প্রেঙ্গার (Edward Spranger) কর্তৃক বর্ণিত নান্দনিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে। নিচে এগুলোর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. নান্দনিক বা সৌন্দর্যতাত্ত্বিক মূল্যবোধ (Aesthetic Value): উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, দিয়া তার মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকৃতির বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ছবি আঁকে। সৌন্দর্য, চারুশিল্প, কল্পনা এবং প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধের প্রতি আকর্ষণ নান্দনিক মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে। যারা সৌন্দর্যের পূজারি এবং শিল্পকলার মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করেন, তাদের মধ্যে এ মূল্যবোধ প্রধান হিসেবে দেখা যায়।
২. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ (Economic Value): উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দিয়ার "চাওয়া পাওয়ার মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি"। এটি তার পার্থিব বা জাগতিক প্রাপ্তি এবং উপযোগিতার প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে। অর্থনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা বস্তুগত লাভ, বাস্তব উপযোগিতা এবং চাওয়া-পাওয়ার বিষয়কে অধিক প্রাধান্য দেন।
৩. রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Value): দিয়া "সবার উপর প্রভাব খাটাতে পছন্দ করে"। অন্যের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখা, নেতৃত্ব দেওয়া, ক্ষমতা প্রদর্শন এবং প্রভাব বিস্তার করার মানসিকতা মূলত রাজনৈতিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য। এ ধরনের ব্যক্তিরা ক্ষমতার অধিকারী হতে এবং সমাজ বা পরিবেশে নিজেকে প্রভাবশালী রূপে দেখতে চান।
পরিশেষে বলা যায়, দিয়ার ব্যক্তিসত্তার মধ্যে নান্দনিকতা, বস্তুগত বা অর্থনৈতিক চাওয়া-পাওয়া এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর রাজনৈতিক মূল্যবোধের এক সংমিশ্রণ ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও