‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক সাহেব। তার পরিষদের সদস্যরা দুইভাগে বিভক্ত। উভয়পক্ষ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর থাকে। বিচারকার্যে কোনো পক্ষ দ্বিমত পোষণ করলে সালিশ মীমাংসা হয় না। ফলে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক আদালতের সদরদপ্তর কোথায়?

    (1)
  2. খ)

    আটলান্টিক চার্টার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের কাজের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন কর্মকর্তার মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত কর্মকর্তার সফলতা-ব্যর্থতা শক্তিধর। রাষ্ট্রের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক আদালতের সদরদপ্তর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ (The Hague) শহরে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে এক যুদ্ধজাহাজে গোপনে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়ে যে যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেন, তাকে আটলান্টিক চার্টার বা আটলান্টিক সনদ বলা হয়। এই সনদে যুদ্ধোত্তর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আগ্রাসন রোধ, সকল জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং নিরস্ত্রীকরণের মূলনীতিসমূহ ব্যক্ত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যান রফিক সাহেবের কাজের সাথে জাতিসংঘ (UN)-এর মহাসচিব (Secretary-General)-এর ভূমিকার মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত এবং তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। বিচারকার্যে কোনো পক্ষ দ্বিমত পোষণ করলে সালিশ মীমাংসা হয় না, যার ফলে চেয়ারম্যান সাহেবের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। পাঠ্যবই অনুযায়ী, জাতিসংঘের মহাসচিবের অবস্থাও বহুলাংশে একই রকম। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর (ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো) পারস্পরিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং যেকোনো এক পক্ষের 'ভেটো' প্রয়োগের কারণে অনেক সময় আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে মহাসচিব কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন না। স্থায়ী সদস্যদের মতানৈক্যের কারণে মহাসচিবের ক্ষমতা ও উদ্যোগ সীমিত হয়ে পড়ে, যা উদ্দীপকে রফিক সাহেবের অসহায়ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি জাতিসংঘের মহাসচিবের সফলতা ও ব্যর্থতা মূলত পরাশক্তি বা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।

    জাতিসংঘের মূল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হলেন মহাসচিব। সনদের ৯৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেকোনো হুমকি নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টিগোচর করতে পারেন এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু জাতিসংঘ কোনো একক সার্বভৌম রাষ্ট্র নয় এবং এর কোনো নিজস্ব নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই। যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচটি পরাশক্তি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন)-এর সম্মতি অপরিহার্য।

    যদি পরাশক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ইস্যুতে ঐকমত্য না থাকে এবং কেউ ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তবে মহাসচিবের পক্ষে কোনো জোরালো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেমন—শীতল যুদ্ধের সময় বা সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটে বৃহৎ শক্তিগুলোর অসহযোগিতার কারণে মহাসচিব কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। পক্ষান্তরে, যখন শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো একমত হয়ে সহযোগিতা করেছে, তখন মহাসচিব শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সফল হয়েছেন।

    সুতরাং, উপযুক্ত যুক্তি ও বাস্তবতার নিরিখে বলা যায় যে, বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগের সফলতা ও ব্যর্থতা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছা ও সহযোগিতার ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন