ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে জানা যায় যে, একসময় ভারতে মেয়েদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। সতীদাহ তথা স্বামীর সাথে সহমরণসহ ঘৃণ্য কিছু প্রথা বিদ্যমান ছিল। বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিকানা থেকেও তারা বঞ্চিত ছিল। বলতে গেলে নারীদের সামাজিক কোনো মর্যাদাই ছিল না। কন্যা সন্তানের প্রতি তাদের অনাগ্রহ এবং ঘৃণা ছিল। এমনকি বর্তমান যুগেও ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা যায় যে, কন্যা সন্তানের ভ্রূণ হত্যা করা হয়।

  1. ক)

    আল মালা কী?

    (1)
  2. খ)

    আরব দেশকে 'জাজিরাতুল আরব' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নারীর যে চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন দেশের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে সে যুগের নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাক-ইসলামি আরবে গোত্রপ্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শ সভা বা পরিষদকে 'আল-মালা' বলা হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'জাজিরা' শব্দের অর্থ দ্বীপ বা উপদ্বীপ এবং 'আরব' শব্দের অর্থ মরুভূমি বা বৃক্ষলতাহীন প্রান্তর। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে আরব ভূখণ্ডের তিন দিক—পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণে পানি বা সাগর (পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগর) এবং কেবল উত্তর দিকে ভূভাগ বা স্থলপথ রয়েছে। তিন দিকে জলরাশি এবং একদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত প্রায়-দ্বীপ বা উপদ্বীপ সদৃশ ভূখণ্ড হওয়ার কারণেই আরব দেশকে 'জাজিরাতুল আরব' বা আরব উপদ্বীপ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রাচীন ভারতের নারীর যে করুণ ও অবহেলিত চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে, তার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের প্রাক-ইসলামি যুগের 'আরব' দেশের (আইয়ামে জাহিলিয়্যা যুগের আরবের) সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।

    প্রাক-ইসলামি আরবে নারীদের কোনো সামাজিক মর্যাদা, অধিকার বা স্বাধীনতা ছিল না। তাদেরকে ভোগের সামগ্রী ও পুরুষের সম্পত্তি বিবেচনা করা হতো। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করাকে অপমানজনক ও অভিশাপ মনে করা হতো, যার ফলে অনেক পিতা তাদের কন্যাসন্তানকে জীবন্ত প্রোথিত (ওয়াদ) করত। এছাড়া সেখানে সম্পত্তিতে নারীদের কোনো উত্তরাধিকার অধিকার ছিল না এবং বহুবিবাহ, দাসী হিসেবে বিক্রি করাসহ নানাবিধ অমানবিক প্রথা প্রচলিত ছিল।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, প্রাচীন ভারতে নারীদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না, সতীদাহের মতো বর্বর প্রথা প্রচলিত ছিল, সম্পত্তিতে তাদের অধিকার ছিল না এবং কন্যাসন্তানের প্রতি ঘৃণা ও ভ্রূণ হত্যার প্রবণতা ছিল। আরব দেশের জাহিলি সমাজের এই হীন মানসিকতা ও কন্যা হত্যার সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত ভারতের নারীদের অবস্থার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে প্রাক-ইসলামি জাহিলিয়্যা যুগের নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ, অবমাননাকর ও মানবেতর। নিচে তা আলোচনা করা হলো:

    ১. সামাজিক অবস্থা:
    আইয়ামে জাহিলিয়্যা যুগে আরব সমাজে নারীদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি ছিল না। নারীদের কেবল ভোগের বস্তু এবং পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পুরুষরা ইচ্ছামতো বহু বিবাহ করতে পারত এবং সহজেই স্ত্রীকে পরিত্যাগ করত। সবচেয়ে নির্মম প্রথা ছিল কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া। কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়াকে চরম লজ্জাজনক ও অমর্যাদাকর মনে করা হতো, তাই অনেক নিষ্ঠুর পিতা তাদের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে মরুভূমির বালুতে জীবন্ত পুঁতে ফেলত। উদ্দীপকের ভ্রূণ হত্যার মতো সে যুগের আরবেও কন্যাসন্তান হত্যা এক চরম রূপ নিয়েছিল। এছাড়া সমাজে বিধবাদের বেঁচে থাকার কোনো সম্মানজনক ব্যবস্থা ছিল না; স্বামীর মৃত্যুর পর নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে অন্য উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।

    ২. অর্থনৈতিক অবস্থা:
    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সে যুগের নারীদের কোনো অধিকার ছিল না। পিতা বা স্বামীর সম্পত্তিতে নারীদের কোনো উত্তরাধিকার ছিল না। তাদের নিজস্ব কোনো সম্পদের মালিকানা লাভের সুযোগ দেওয়া হতো না। এমনকি মহর বা দেনমোহরের অর্থও অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিয়ে নিত। যুদ্ধবন্দি নারীদের বাজারে দাসী হিসেবে কেনাবেচা করা হতো এবং তাদেরকে দিয়ে অর্থ উপার্জনের অমানবিক কর্মকাণ্ড চালানো হতো।

    পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রতিফলিত ভারতের নারীদের অবদমিত অবস্থার মতোই ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে নারীরা সামাজিক সম্মান এবং অর্থনৈতিক স্বাধিকার হারিয়ে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন