ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
খলিফা আলী রা. এবং সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে মতানৈক্যের ফলে সিফিফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে আলী রা. এর বাহিনীর বিজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে মুয়াবিয়ার প্রতিনিধি আমর ইবনে আল আস এর কূটনৈতিক চালে আলী রা. যুদ্ধ বন্ধ করেন। এর ফলে আলী রা. খিলাফত হারান।
- ক)(1)
কে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করেন?
- খ)(2)
অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের কোন যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত যুদ্ধের ফলাফল কি হয়েছিল? বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার সিফফিনের যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয়ের মুখে যুদ্ধ থামিয়ে পরাজয় বরণ করার বিষয়টির সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস অনুযায়ী ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মীর জাফরের চক্রান্তের সাদৃশ্য নির্দেশিত হয়েছে।
লর্ড রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- খ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার সিফফিনের যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয়ের মুখে যুদ্ধ থামিয়ে পরাজয় বরণ করার বিষয়টির সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস অনুযায়ী ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মীর জাফরের চক্রান্তের সাদৃশ্য নির্দেশিত হয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক ১৭৫৬ সালে কলকাতা বিজয়ের পর জে. জেড. হলওয়েল নামের এক ইংরেজ কর্মচারী কর্তৃক প্রচারিত কাহিনিই ইতিহাসে 'অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড' বা 'ব্ল্যাক হোল ট্র্যাজেডি' নামে পরিচিত। হলওয়েলের বিবরণ অনুযায়ী, নবাবের আদেশে ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি প্রশস্ত একটি ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে আটকে রাখা হলে তীব্র দাবদাহ ও শ্বাসকষ্টে ১২৩ জন মারা যায়। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে এটি সিরাজউদ্দৌলাকে হেয় করার জন্য ইংরেজদের একটি পরিকল্পিত ও অতিরঞ্জিত প্রচারণা ছিল।
- গ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার সিফফিনের যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয়ের মুখে যুদ্ধ থামিয়ে পরাজয় বরণ করার বিষয়টির সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস অনুযায়ী ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মীর জাফরের চক্রান্তের সাদৃশ্য নির্দেশিত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সিফফিনের যুদ্ধের ঘটনার সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধের' (১৭৫৭ খ্রি.) গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সিফফিনের যুদ্ধে হজরত আলী (রা.)-এর বাহিনীর নিশ্চিত বিজয়ের মুহূর্তে মুয়াবিয়ার প্রতিনিধি আমর ইবনে আল-আসের চতুর কূটনৈতিক চালে কোরআন শরিফ বর্শার মাথায় বিদ্ধ করে সন্ধির প্রস্তাব দিলে আলী (রা.) সরল বিশ্বাসে যুদ্ধ বন্ধ করেন, যা চূড়ান্তভাবে তাঁর রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
অনুরূপভাবে, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার অনুগত বীর সেনাপতি মীর মদন ও মোহনলালের তীব্র আক্রমণে রবার্ট ক্লাইভের ইংরেজ বাহিনী যখন পরাজয়ের মুখে এবং নবাবের নিশ্চিত বিজয় আসন্ন, ঠিক তখনই প্রধান সেনাপতি মীর জাফর কোরআন স্পর্শ করে শপথ নিয়ে যুদ্ধ থামানোর চক্রান্তমূলক পরামর্শ দেয়। মীর জাফরের ছলনায় নবাব যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিলে ইংরেজরা অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়ে নিশ্চিত বিজয়ের হাত থেকে নবাবকে শোচনীয় পরাজয়ে ঠেলে দেয়। সুতরাং, নিশ্চিত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে চক্রান্তমূলক কৌশলে যুদ্ধবিরতি ঘটানোর দিক থেকে সিফফিনের যুদ্ধের সাথে পলাশীর যুদ্ধের সাদৃশ্য সুস্পষ্ট।
- ঘ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার সিফফিনের যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয়ের মুখে যুদ্ধ থামিয়ে পরাজয় বরণ করার বিষয়টির সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস অনুযায়ী ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মীর জাফরের চক্রান্তের সাদৃশ্য নির্দেশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের ইঙ্গিতপূর্ণ যুদ্ধ অর্থাৎ ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ছিল বাংলা তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ। নিম্নে এর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত: পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে এবং পরবর্তীকালে তিনি ঘাতক মোহাম্মদী বেগের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এর ফলে বাংলার দীর্ঘকালের রাজনৈতিক স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়।
২. পুতুল নবাবের শাসন ও ইংরেজদের ক্ষমতার বিস্তার: ব্রিটিশরা বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরকে সিংহাসনে বসালেও তিনি ছিলেন ক্ষমতাহীন এক 'পুতুল নবাব'। প্রকৃত শাসন ও সামরিক কর্তৃত্ব চলে যায় লর্ড ক্লাইভ ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে।
৩. ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর: একটি নিছক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। পলাশীর বিজয়ের মাধ্যমেই উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের মজবুত ভিত্তি স্থাপিত হয়।
৪. পলাশী লুণ্ঠন ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়: যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও নজরানার নামে ক্লাইভ ও কোম্পানির কর্মচারীরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ বাংলা থেকে ইংল্যান্ডে পাচার করে, যা ইতিহাসে 'পলাশী লুণ্ঠন' নামে পরিচিত। এর ফলে বাংলার একসময়ের সমৃদ্ধ অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায় এবং কোম্পানি পরবর্তীতে একচ্ছত্র বাণিজ্য সুবিধা লাভ করে।
সুতরাং বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ছিল বাংলার প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক পরাধীনতা, চরম সামাজিক বিপর্যয় এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শোষণের সূচনা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও