ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

নদীভাঙনের শিকার হয়ে একদল মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে বস্তিতে আশ্রয় নেয়। বাজারের মাল উঠানামা, হোররে কর্মচারী, পত্রিকা বিক্রি, ফল বিক্রি, রিকশা-ভ্যান চালানো ইত্যাদি কাজ নাখালপাড়ার করে তারা অতি কষ্টে দিনযাপন করছিল। একদিন হঠাৎ উৎখাত হয়ে তারা শ্যামলীর বস্তিতে আশ্রয় নেয়। শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। এভাবে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় তাদের দিন কাটে।

  1. ক)

    কাকে 'শেখ' বলা হতো।

    (1)
  2. খ)

    উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত জনজীবনের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জনগোষ্ঠীর সাথে উক্ত জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাক-ইসলামি আরবে যাযাবর বা বেদুইনদের গোত্রপ্রধানকে 'শেখ' বলা হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশে উট দীর্ঘ পথ অনায়াসে পাড়ি দিতে পারে বলে একে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।
    উট কয়েক দিন পানি ও খাদ্য ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে। এর পায়ের গঠন এমন যে তা মরুভূমির বালিতে ডেবে যায় না। মরুভূমির প্রচণ্ড উত্তাপ ও বালুঝড় সহ্য করে ভারী মালপত্র পরিবহন ও যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে কাজ করায় উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের উল্লিখিত জনজীবনের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের যাযাবর বা 'বেদুইন' জনগোষ্ঠীর যাযাবর জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে।
    প্রাক-ইসলামি আরবে অধিবাসীদের প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হতো: স্থায়ী বা নগরবাসী এবং যাযাবর বা বেদুইন। বেদুইনদের কোনো স্থায়ী ঘরবাড়ি বা ঠিকানা ছিল না। তারা খাদ্য, পানি ও পশুর চারণভূমির সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাঁবু ফেলে ঘুরে বেড়াত এবং চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাত।
    উদ্দীপকে নদীভাঙনের শিকার মানুষগুলো যেমন স্থায়ী ভিটেমাটি হারিয়ে এক বস্তি থেকে অন্য বস্তিতে আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সর্বদা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে স্থান পরিবর্তন করছে, তেমনি প্রাক-ইসলামি আরবের বেদুইনরাও নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী বাসস্থান ছাড়া যাযাবরবৃত্তি ও অনিশ্চিত জীবনযাপন করত। তাই তাদের মধ্যে যাযাবর জীবনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জনগোষ্ঠীর সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের বেদুইন জনগোষ্ঠীর জীবনের অনিশ্চয়তায় সাদৃশ্য থাকলেও তাদের জীবিকা নির্বাহের উপায়ে ব্যাপক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
    উদ্দীপকের মানুষগুলো জীবিকার তাগিদে আধুনিক শহরের অনানুষ্ঠানিক খাতে কায়িক শ্রম ও ছোটখাটো পেশায় নিয়োজিত। তারা বাজারের মাল ওঠানামা, হোটেলের কাজ, পত্রিকা ও ফল বিক্রি, রিকশা-ভ্যান চালানোর মতো শ্রমজীবী পেশার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে অত্যন্ত কষ্টে দিনযাপন করে। তাদের পেশা পুরোপুরি শ্রমভিত্তিক ও সেবাধর্মী।
    অন্যদিকে, প্রাক-ইসলামি আরবের বেদুইনদের জীবিকা মূলত তিনটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল ছিল: পশুপালন (উট, দুম্বা, ছাগল ইত্যাদি), শিকার এবং লুটতরাজ বা 'গাজওয়া'। তারা কাফেলা ও অন্য গোত্রের ওপর আক্রমণ চালিয়ে মালামাল লুট করাকে বীরত্বপূর্ণ ও বৈধ কাজ বলে মনে করত। আধুনিক শ্রমজীবী মানুষের মতো অন্যের অধীনে মজুরিভিত্তিক কাজ করার সুযোগ বা সংস্কৃতি তাদের ছিল না।
    সুতরাং, উদ্দীপকের জনগোষ্ঠী শ্রম দিয়ে সৎভাবে জীবিকা অর্জনে সচেষ্ট হলেও বেদুইনদের প্রধান জীবিকা ছিল পশুপালন ও গোত্রভিত্তিক লুণ্ঠন। ফলে তাদের জীবন-জীবিকার ধরনে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন