ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
“আর যদি একটি গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়” - তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো।
- ক)(1)
১৯৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনে কয় দফা দাবি পেশ করা হয়?
- খ)(2)
মৌলিক গণতন্ত্র কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত উক্তিটি তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ভাষণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক গণতন্ত্র হলো ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান কর্তৃক প্রবর্তিত এক বিশেষ ধরনের সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ জন স্থানীয় প্রতিনিধি (পরবর্তীতে ১,২০,০০০) নিয়ে একটি নির্বাচক মণ্ডলী গঠিত হতো, যাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা নির্বাচিত হতেন। সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত উক্তিটি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে নির্দেশ করে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে এবং ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে দেয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় দশ লক্ষ মানুষের বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু দিকনির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
উদ্দীপকের উক্তিটি বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের অন্যতম প্রধান অংশ। এই ভাষণে তিনি পাকিস্তানি সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “আর যদি একটি গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়—তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।” সুতরাং, উদ্দীপকের উক্তিটি স্পষ্টভাবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার দিকনির্দেশক দলিল। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এ ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, এই ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সামরিক জান্তার দীর্ঘ শোষণ ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং বাঙালির স্বাধিকার আদায়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি অত্যন্ত কৌশলে একদিকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন এবং অন্যদিকে সশস্ত্র গণসংগ্রামের সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে” এবং “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
দ্বিতীয়ত, ভাষণে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এটি ছিল বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা, যেখানে একজন অবিসংবাদিত নেতার অঙ্গুলি হেলনে পুরো একটি প্রদেশ পরিচালিত হচ্ছিল।
তৃতীয়ত, এ ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস, যা দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও শক্তি জুগিয়েছিল। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো (UNESCO) ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এ ভাষণকে 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার'-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, এটি ছিল একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিপাগল যোদ্ধায় রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি ও স্বাধীনতার মহাকাব্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও