ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিভাগে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অফিসার সংখ্যার একটি তুলনামূলক চিত্র :

- ক)(1)
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কখন গৃহীত হয়?
- খ)(2)
১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল কি হয়েছিল
- গ)(3)
উদ্দীপকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি যেরূপ বৈষম্য দেখানো হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
এরূপ বৈষম্য সমূহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল - তোমার মতামত দাও
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয় (এবং এটি কার্যকর হয় ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মোট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে ঐতিহাসিক জয় পায়। অন্যদিকে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পেয়ে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং পূর্ব বাংলায় তাদের রাজনৈতিক প্রভাব চিরতরে ভেঙে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল একেবারেই নগণ্য। উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ৮৯৪ জন পশ্চিম পাকিস্তানি অফিসারের বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানি অফিসার ছিলেন মাত্র ১৪ জন। নৌবাহিনীতে ৫৯৩ জনের বিপরীতে মাত্র ৭ জন এবং বিমানবাহিনীতে ৬৪০ জনের বিপরীতে ছিলেন মাত্র ৬০ জন। সামগ্রিকভাবে মোট ২১২৭ জন পশ্চিম পাকিস্তানি অফিসারের বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানের অফিসার ছিলেন মাত্র ৮১ জন, যা মোট সংখ্যার ৪ শতাংশেরও কম।
বাঙালিরা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা (প্রায় ৫৬%) হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক গঠন ও 'অ-যোদ্ধা জাতি' সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অজুহাত তুলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল। ফলে উদ্দীপকে সামরিক প্রশাসনে বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের চরম অবহেলা ও বৈষম্যমূলক নীতির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিরক্ষা বৈষম্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতিই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের আধিপত্য কায়েম হয়। উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, সামরিক ক্ষেত্রে বাঙালিদের অফিসার পদে নিয়োগ ছিল নামমাত্র। এমনকি তিনটি বাহিনীর সদর দপ্তরসহ অধিকাংশ সামরিক ঘাঁটি পশ্চিম পাকিস্তানে স্থাপন করা হয় এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার বিপুল বাজেট পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নেই ব্যয় হতো। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল, যা বাঙালিদের মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
সামরিক বৈষম্যের পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তান থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্বের সিংহভাগই পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, অথচ বাঙালিরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকত। এ চরম বঞ্চনাবোধের ফলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যার অন্যতম দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের বর্বর সামরিক আক্রমণ বাঙালিদের সশস্ত্র প্রতিরোধে বাধ্য করে।
অতএব, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসা কাঠামোগত বৈষম্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদকে বেগবান করে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকে অনিবার্য ও ত্বরান্বিত করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও