ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মিতুর বাবা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ হন। তার মা এবং প্রতিবেশী নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রদানসহ সমর্থ্য অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করতেন। এছাড়া তারা সকলে মিলে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্র্যষার দায়িত্ব গ্রহণ করতেন।
- ক)(1)
কনসার্ট ফর বাংলাদেশের উদ্যোক্তা কে?
- খ)(2)
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিতুর মায়ের কর্মকাণ্ডের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কাদের সাথে মিল পাওয়া যায়।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিতুর মায়ের মত একটি বিশেষ শ্রেণীর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ - উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পরিচালিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন প্রচার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম এটি চালু হয়। পরবর্তীতে মুজিবনগর সরকারের তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে কলকাতা থেকে এর সম্প্রচার পরিচালিত হয়। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশাত্মবোধক গান, সংবাদ ও বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের মনোবল বৃদ্ধি করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিতুর মায়ের কর্মকাণ্ডের সাথে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ বাঙালি নারীদের গৌরবোজ্জ্বল ও ত্যাগী ভূমিকার মিল পাওয়া যায়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল বহুমুখী ও অপরিসীম। একদিকে অনেকে সরাসরি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন, অন্যদিকে একটি বিশাল অংশ নেপথ্যে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের নিজেদের ঘরে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন, অন্ন জুগিয়েছেন এবং অসুস্থ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরলস সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিতুর মা ও প্রতিবেশী নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রদান, খাবার সরবরাহ এবং আহতদের সেবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ গ্রামীণ ও শহুরে নারীদের অবদানের সাথে মিতুর মায়ের এই মানবিক ও সাহসী কর্মকাণ্ডের হুবহু সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিতুর মায়ের মতো নারী সমাজের অবদান ছিল অপরিসীম ও তাৎপর্যপূর্ণ—উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারী সমাজ পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসরদের ভয়াবহ নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েও অসীম সাহসিকতায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধে নারীদের অবদান কেবল সহযোদ্ধা হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল যুদ্ধের নেপথ্যের মূল জীবনীশক্তি।
মিতুর মায়ের মতো নারীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুকিয়ে রাখা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গোপন তথ্য ও বার্তা পৌঁছে দেওয়া, খাবার রান্না করে সরবরাহ করা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতেন। পাকবাহিনীর আক্রমণে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তুলে তাঁরা আবারও রণাঙ্গনে পাঠিয়েছেন। এছাড়া বহু নারী সরাসরি অস্ত্র হাতে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন, যেমন তারামন বিবি ও সেতারা বেগম, যাঁরা বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। তদুপরি, প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ মা-বোন তাঁদের সর্বোচ্চ সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়ে স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিলেন।
অতএব, স্পষ্টতই বলা যায়, নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতা ছাড়া নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা অসম্ভব হতো। তাই মুক্তিযুদ্ধে নারী সমাজের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও