ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার জাভার সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এতে এলাকাটি প্লাবিত হয়ে অসংখ্য লোকের প্রাণহানিসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ।
- ক)(1)
আগ্নেয়গিরি কী?
- খ)(2)
ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তনকারী শক্তি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত প্রাকৃতিক দুর্যোগটি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত দুর্যোগটির পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূত্বকের দুর্বল অংশের ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত গলিত লাভা, গ্যাস, ছাই, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি তীব্র বেগে বাইরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া বা পথকে আগ্নেয়গিরি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূপৃষ্ঠে যে সকল প্রাকৃতিক শক্তি অত্যন্ত ধীরগতিতে কার্য সম্পাদন করে ভূপৃষ্ঠের রূপ পরিবর্তন করে, সেগুলোকে ধীর পরিবর্তনকারী শক্তি বলে। সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদী, হিমবাহ ইত্যাদি এ ধরনের শক্তি। এদের প্রভাবে শিলা বিচূর্ণীভবন, ক্ষয়ীভবন ও সঞ্চয়ীভবনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে পর্বত, মালভূমি বা সমভূমির মতো নতুন ভূরূপের সৃষ্টি বা পরিবর্তন ঘটে। এ পরিবর্তনের ফলাফল সহজে বা তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দুর্যোগটি হলো ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট 'সুনামি'।
সুনামি সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো সমুদ্রের তলদেশে ভূ-আলোড়ন, অগ্ন্যুৎপাত বা আকস্মিক ভূমিধস। ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির তীব্র অগ্ন্যুৎপাতের কারণে এর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ ধসে সমুদ্রের তলদেশে পতিত হয়। সমুদ্রের তলদেশে এই বিশাল আকৃতির আকস্মিক ভূমিধস ও ভূকম্পনের ফলে বিপুল পরিমাণ পানির স্থানচ্যুতি ঘটে। এর ফলে সমুদ্রের পানিতে বিশালাকার শক্তিশালী তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উপকূলবর্তী জাভা ও সুমাত্রা উপকূলে আছড়ে পড়ে ভয়াবহ সুনামির রূপ নেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সুনামি দুর্যোগটির মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের বিনাশ: সুনামির প্রবল জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনভূমি, জলজ উদ্ভিদের আবাস এবং প্রবাল প্রাচীর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, ফলে উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২. মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের লোনা পানি স্থলভাগের বিস্তৃত অঞ্চলে প্রবেশ করায় কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ মিঠা পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষিজমি দীর্ঘ সময়ের জন্য উর্বরতা হারায় এবং মিঠা পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়।
৩. জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি: তীব্র জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে স্থলজ ও উপকূলীয় বহু বন্যপ্রাণী, পাখি ও কীটপতঙ্গ ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়।
৪. উপকূলরেখার পরিবর্তন ও ভূমিক্ষয়: সুনামির প্রবল তরঙ্গের আঘাতে উপকূলীয় মাটির স্তর ভেঙে যায়, যা ব্যাপক ভূমিক্ষয় ঘটায় এবং উপকূলের স্বাভাবিক ভৌগোলিক রূপ বদলে দেয়।
৫. জলদূষণ ও মহামারী: প্লাবিত অঞ্চলে মানবদেহের বর্জ্য, শিল্পবর্জ্য ও গলিত মৃতদেহ মিশে গিয়ে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, যা রোগজীবাণু বিস্তারে সহায়তা করে।সুতরাং, এ ধরনের দুর্যোগ উপকূলীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও