ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসাগরের তলদেশের প্লেট সীমানা বরাবর একটি বিশেষ আকৃতির ভূমিরূপ রয়েছে। উক্ত ভূমিরূপটি নিরক্ষরেখা বরাবর রোমানসে খাত দ্বারা বিভক্ত।
- ক)(1)
ঝিনুক অঞ্চল কাকে বলে?
- খ)(2)
জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বিশেষ আকৃতির ভূমিরূপ গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত ভূমিরূপটির বৈচিত্র্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহাদেশীয় মহীসোপানের যেসব অগভীর ও মৃদু ঢালযুক্ত অঞ্চলে সূর্যালোক পৌঁছায় এবং বিপুল পরিমাণ প্লাঙ্কটন ও শৈবাল জন্মায়, যার ফলে প্রচুর ঝিনুক ও মুক্তার বিস্তার ঘটে, তাকে ঝিনুক অঞ্চল বা শেলফ জোন (Oyster zone) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অপরিসীম। পানিচক্রের মাধ্যমে বাষ্পীভবন, ঘনীভবন ও বারিপাতের প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল ও অশ্মমণ্ডলের মধ্যে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। এই চক্রের ফলেই ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিপাত হয়, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মিঠা পানির প্রধান উৎস। এছাড়া পানিচক্র আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াসহ সামগ্রিক জীবজগতের জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিশেষ আকৃতির ভূমিরূপটি হলো আটলান্টিক মহাসাগরের 'মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরা'। এর গঠনের মূল কারণ হলো অপসারী বা প্রতিসারী ভূত্বকীয় পাত সীমানা (Divergent Plate Boundary)।
ইউরেশীয় ও আফ্রিকান পাত থেকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকান পাত বিপরীত দিকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে এক বিশাল ফাটল বা অপসারী পাত সীমানার সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই পাতের মধ্যবর্তী স্থান বা ফাটল দিয়ে পৃথিবীর অভ্যন্তরের ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা বা লাভা অবিরাম বের হয়ে আসে। সমুদ্রের তলদেশের শীতল পানির সংস্পর্শে এসে এই ম্যাগমা দ্রুত জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে উভয় প্রান্তে নতুন ভূত্বক গঠিত হতে হতে সমুদ্রের তলদেশে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত প্রায় 'S' আকৃতির এক দীর্ঘ নিমজ্জিত পর্বতশ্রেণী বা শৈলশিরা গড়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত ভূমিরূপটি হলো মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরা। এই শৈলশিরাটির উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অবস্থান ও বিস্তৃতি: শৈলশিরাটি উত্তরে আইসল্যান্ডের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণে বোভেট দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় ১৬,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি দেখতে ইংরেজি 'S' অক্ষরের মতো এবং আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশের মধ্যভাগ দিয়ে বিস্তৃত।
২. রোমানসে খাত দ্বারা বিভাজন: নিরক্ষরেখার নিকট শৈলশিরাটি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত গভীর 'রোমানসে খাত' (Romanche Trench) দ্বারা উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই অংশে বিভক্ত। এর গভীরতা প্রায় ৭,৭৫৮ মিটার।
৩. দুই ভাগের স্বতন্ত্র নামকরণ: রোমানসে খাতের উত্তরাংশকে 'ডলফিন শৈলশিরা' (Dolphin Ridge) এবং দক্ষিণাংশকে 'চ্যালেঞ্জার শৈলশিরা' (Challenger Ridge) বলা হয়।
৪. কেন্দ্রীয় উপত্যকা ও চ্যুতি: শৈলশিরার শীর্ষ বরাবর একটি সংকীর্ণ ফাটল উপত্যকা (Rift Valley) রয়েছে, যা বরাবর ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়। অসংখ্য ট্রান্সফর্ম চ্যুতি শৈলশিরাটিকে আড়াআড়িভাবে বিভক্ত করেছে।
৫. দ্বীপ সৃষ্টি: শৈলশিরার কোনো কোনো অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে উঠে এসে বিশিষ্ট দ্বীপ তৈরি করেছে; যেমন—আইসল্যান্ড, অ্যাজোরস, অ্যাসেনশন, সেন্ট হেলেনা এবং ত্রিস্তান দা কুনহা।
সুতরাং, মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরাটি তার দীর্ঘ বিস্তৃতি, টেকটোনিক চ্যুতি ও খাদ এবং দ্বীপসমূহের উপস্থিতির কারণে মহাসাগরীয় তলদেশের এক অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূমিরূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও