ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ভূত্বক কাকে বলে?
- খ)(2)
ব্যাসল্ট স্তরকে মেফিক স্তর বলা হয় কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্র-খ এ পর্বতটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চিত্র-ক ও চিত্র-খ-এ পর্বতদ্বয়ের গঠনগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন ও পাতলা বহিরাবরণকে ভূত্বক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূত্বকের নিম্নাংশ মূলত ব্যাসল্ট জাতীয় ভারী শিলা দ্বারা গঠিত, যাকে সীমা (Sima) স্তরও বলা হয়। এই স্তরে ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium) এবং লৌহ (Ferrous/Iron)-ঘটিত খনিজের প্রাচুর্য অত্যন্ত বেশি থাকে। ভূতত্ত্ববিদ্যায় ম্যাগনেসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ গাঢ় বর্ণের ভারী খনিজকে সংক্ষেপে 'মেফিক' (Mafic - Magnesium + Ferric) বলা হয়। তাই ব্যাসল্ট স্তরকে মেফিক স্তর বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'চিত্র-খ' দ্বারা ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. তরঙ্গায়িত ভাঁজ: এই পর্বতগুলো আনুভূমিক ভূ-আলোড়ন ও পার্শ্বচাপের ফলে পাললিক শিলাস্তরে ঢেউয়ের মতো ভাঁজ বা কুঞ্চন সৃষ্টির মাধ্যমে গঠিত হয়।
২. শৃঙ্গ ও উপত্যকা: এর ভাঁজের উত্তল বা উঁচু অংশগুলো শৈলশিরা বা শৃঙ্গ (Anticline) এবং অবতল বা নিচু অংশগুলো উপত্যকা (Syncline) গঠন করে।
৩. পাললিক শিলার প্রাচুর্য ও জীবাশ্ম: ভঙ্গিল পর্বত প্রধানত স্তরীভূত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত, ফলে এতে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক জীব ও উদ্ভিদের জীবাশ্ম দেখতে পাওয়া যায়।
৪. দীর্ঘ ও বিস্তৃত এলাকা: এগুলো সাধারণত পৃথিবীর দীর্ঘ এলাকাজুড়ে বৃত্তাকার বা ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে বিস্তৃত থাকে।
৫. অস্থির ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল: ভঙ্গিল পর্বত অঞ্চলগুলো ভূতাত্ত্বিকভাবে এখনও নবীন ও পরিবর্তনশীল, যার ফলে এসব অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। হিমালয়, আল্পস, রকি প্রভৃতি ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'চিত্র-ক' দ্বারা স্তূপ পর্বত (Block Mountain) এবং 'চিত্র-খ' দ্বারা ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain) নির্দেশ করা হয়েছে। এই পর্বতদ্বয়ের গঠনগত পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভূ-আলোড়নের প্রকৃতি: ভূ-অভ্যন্তরে টান বা প্রসারণজনিত বলের প্রভাবে ভূত্বকে ফাটল বা চ্যুতির (Fault) সৃষ্টি হয় এবং এই চ্যুতি বরাবর কোনো অংশ উপরে উঠে গিয়ে বা পাশের অংশ নিচে দেবে গিয়ে স্তূপ পর্বত (চিত্র-ক) গঠিত হয়। অন্যদিকে, প্রবল পার্শ্বচাপ ও সংকোচনমূলক ভূ-আলোড়নের ফলে কোমল পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত (চিত্র-খ) গঠিত হয়।
২. শিলার ধরন: স্তূপ পর্বত সাধারণত কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত হয়। পক্ষান্তরে, ভঙ্গিল পর্বত প্রধানত নরম ও স্তরীভূত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত হয়।
৩. কাঠামোগত রূপ: স্তূপ পর্বতের শীর্ষদেশ সাধারণত চ্যাপ্টা বা সমতল প্রকৃতির হয় এবং এর ঢাল অত্যন্ত খাড়া হয়। অপরদিকে, ভঙ্গিল পর্বতের শিখরগুলো অত্যন্ত খাড়া, সূঁচালো ও উঁচু-নিচু শৃঙ্গযুক্ত হয় এবং পর্বতে অসংখ্য ভাঁজ বা কুঞ্চন থাকে।
৪. জীবাশ্মের উপস্থিতি: স্তূপ পর্বত আগ্নেয় বা রূপান্তরিত শিলায় গঠিত হওয়ায় এতে সাধারণত কোনো জীবাশ্ম থাকে না। কিন্তু ভঙ্গিল পর্বত সমুদ্রের তলদেশের পাললিক শিলা সংকুচিত হয়ে গঠিত হওয়ায় এতে প্রচুর সামুদ্রিক জীবাশ্ম দেখা যায়।
৫. সংশ্লিষ্ট ভূ-প্রকৃতি: স্তূপ পর্বতের পাশাপাশি প্রায়ই গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) অবস্থান করে। অন্যদিকে, ভঙ্গিল পর্বতের ভাঁজের উত্থান-পতনের কারণে শৃঙ্গ ও নদী উপত্যকা তৈরি হয়।
অতএব, উৎপত্তি প্রক্রিয়া, শিলার বৈশিষ্ট্য এবং গঠনগত কাঠামোর দিক থেকে স্তূপ পর্বত (চিত্র-ক) ও ভঙ্গিল পর্বত (চিত্র-খ) সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও