ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

সাকিব বিগত শীতে বাংলাদেশের দুটি বনে বেড়াতে গিয়েছিল। একটি বনে জোয়ার-ভাটার পানি প্রভাবিত অরণ্য এবং অন্যটি বাংলাদেশের প্রায় মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত বনভূমিতে পত্রশূন্য অবস্থা দেখতে পায়।

  1. ক)

    বায়োম কী?

    (1)
  2. খ)

    ইকোসিস্টেম ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথমোক্ত বনভূমির ধরন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বনভূমিদ্বয়ের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই ধরনের জলবায়ু, মাটি এবং বিশিষ্ট উদ্ভিদ ও প্রাণী সংবলিত বিস্তৃত ভৌগোলিক অঞ্চলকে বায়োম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশের অজীব উপাদান এবং সজীব উপাদানসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়া ও শক্তির বিনিময়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা কার্যকর ও গতিশীল ব্যবস্থাকে ইকোসিস্টেম (বাস্তুতন্ত্র) বলে। বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ), খাদক (তৃণভোজী, মাংসাশী) ও বিয়োজক (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) নিজেদের মধ্যে খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের মাধ্যমে শক্তি প্রবাহ বজায় রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথমোক্ত বনভূমিটি হলো জোয়ার-ভাটার পানি প্রভাবিত 'ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি' (যেমন: সুন্দরবন)।

    এ ধরনের বনভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিত, যা প্রতিদিনের নিয়মিত জোয়ার-ভাটায় নোনা পানিতে প্লাবিত হয়। এখানকার উদ্ভিদের মূল মাটির নিচে বেশি গভীরে যায় না। তাই গাছের কাণ্ডকে খাড়া রাখার জন্য ঠেসমূল এবং কাদামাটি থেকে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণের জন্য অসংখ্য শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর জন্মায়। এ বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী, গেওয়া, গরান, ধুন্দুল, কেওড়া ইত্যাদি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বনভূমি দুটি হলো যথাক্রমে ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি (উপকূলীয় সুন্দরবন) এবং ক্রান্তীয় পাতাঝরা বা পত্রপতনশীল বনভূমি (মধ্যাঞ্চলের ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়)। এ দুটি বনভূমির বৈশিষ্ট্যের প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অবস্থান ও জলবায়ু: ম্যানগ্রোভ বনভূমি সমুদ্র উপকূলবর্তী নিম্ন ও আর্দ্র লবণাক্ত অঞ্চলে অবস্থিত। অন্যদিকে, পাতাঝরা বনভূমি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল তথা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের উঁচু সমভূমি বা বরেন্দ্র-সোপান অঞ্চলে অবস্থিত।
    ২. পানির প্রভাব: স্রোতজ বনভূমি প্রতিদিন দিনে দুবার সমুদ্রের নোনা জোয়ার-ভাটার পানিতে প্লাবিত হয়। অপরদিকে, পত্রপতনশীল বনভূমি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় না, এটি বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল।
    ৩. উদ্ভিদের অভিযোজন বৈশিষ্ট্য: স্রোতজ বনভূমির উদ্ভিদে শ্বাসকার্য চালানোর জন্য শ্বাসমূল এবং কাদার ওপর দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ঠেসমূল থাকে এবং ফল গাছে থাকা অবস্থাতেই জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়। কিন্তু পাতাঝরা উদ্ভিদের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে না; বরং শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমে প্রস্বেদন কমাতে এরা সমস্ত পাতা ঝরিয়ে দেয়।
    ৪. উদ্ভিদের ধরন ও প্রজাতি: স্রোতজ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া ইত্যাদি। অপরদিকে, মধ্য অঞ্চলের পাতাঝরা বনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারি, কড়ই, বহেরা, হরিতকী ইত্যাদি।

    অতএব, ভৌগোলিক অবস্থান, মাটির ধরন ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে উভয় বনভূমির প্রকৃতি ও উদ্ভিদের অভিযোজনে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন