ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সমুদ্রস্রোত কী?

    (1)
  2. খ)

    শৈলশিরার অবস্থান সমুদ্রস্রোতকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'খ' এ প্রদর্শিত জোয়ার-ভাটার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ক' ও 'খ' এ প্রদর্শিত জোয়ার-ভাটার পার্থক্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহাসাগরের উপরিভাগের পানির একটি নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিত ও অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হওয়াকে সমুদ্রস্রোত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমুদ্রের তলদেশে নিমজ্জিত কোনো শৈলশিরা বা উঁচু ভূভাগ থাকলে তা সমুদ্রস্রোতের গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করে। শৈলশিরার অবস্থানের কারণে স্রোত সরাসরি সোজা পথে না গিয়ে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয় অথবা শৈলশিরার পাশ কাটিয়ে অন্য পথ ধরে। যেমন—আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরার অবস্থানের কারণে এর স্রোতের গতি ও দিক পরিবর্তিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'খ' চিত্রে মরা কটাল বা মরা জোয়ার প্রদর্শিত হয়েছে। এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. কৌণিক অবস্থান: এ অবস্থায় চাঁদ এবং সূর্য পৃথিবীর কেন্দ্রের সাথে সমকোণে (৯০° কোণে) অবস্থান করে। এটি সাধারণত শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ঘটে থাকে।
    ২. আকর্ষণের ভারসাম্যহীনতা: চাঁদ যেদিকে আকর্ষণ করে সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠায় মুখ্য জোয়ার সৃষ্টি করতে চায়, সূর্য তার সমকোণে অবস্থান করে বিপরীত দিকে পানি আকর্ষণ করে। এর ফলে উভয়ের আকর্ষণ শক্তি পরস্পরকে কিছুটা নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেয়।
    ৩. পানির স্ফীতি কম: চাঁদের আকর্ষণ সূর্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় চাঁদের দিকেই জোয়ার হয়, তবে সূর্যের বিপরীতমুখী টানের কারণে পানির স্ফীতি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অনেক কম হয় এবং ভাটার পানিও খুব বেশি নামে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রে তেজ কটাল (ভরা জোয়ার) এবং 'খ' চিত্রে মরা কটাল (মরা জোয়ার) প্রদর্শিত হয়েছে। এদের মধ্যে পার্থক্যের মূল কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মহাজাগতিক অবস্থান বা কোণ: 'ক' চিত্রে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করছে (সিজিগি অবস্থা—এখানে পূর্ণিমা তিথি প্রদর্শিত)। অন্যদিকে 'খ' চিত্রে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর সাথে সমকোণে (৯০° কোণে) অবস্থান করছে (অষ্টমী তিথি)।

    ২. আকর্ষণ বলের সংযোজন ও বিয়োজন: তেজ কটালের ('ক') সময় সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ একই সরলরেখায় কাজ করায় উভয় বল যুক্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধি করে। ফলে পানির স্ফীতি সর্বাধিক হয়। কিন্তু মরা কটালের ('খ') সময় সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণ বল একে অপরের সাথে আড়াআড়ি বা সমকোণে কাজ করে, যার ফলে একটির আকর্ষণ বল অপরটির আকর্ষণ বলের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

    ৩. তিথির পার্থক্য: 'ক' অবস্থাটি ঘটে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে, যখন চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ থাকে। অপরপক্ষে 'খ' অবস্থাটি ঘটে উভয় পক্ষের অষ্টমী তিথিতে।

    সুতরাং, পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের আপেক্ষিক কৌণিক অবস্থান এবং তাদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের গতিপথ ও তীব্রতার তারতম্যের কারণেই 'ক' এবং 'খ' প্রদর্শিত জোয়ার-ভাটার পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন