ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”
- ক)(1)
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার আসামির সংখ্যা কতজন ছিল?
- খ)(2)
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলন কী তা ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্ধতাংশটি বাংলাদেশের যে সংগ্রামের ঘোষণাকে ইঙ্গিত করে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত ভাষণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার আসামির সংখ্যা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সর্বস্তরের জনগণ যে অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনা করে, তাকে ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন বলা হয়। এ সময় পুরো পূর্ব পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছিল এবং স্কুল, কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃতাংশটি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির মহান সংগ্রামকে ইঙ্গিত করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এই উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ প্রায় দশ লক্ষ মানুষের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু এক কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেন।
ভাষণের শেষভাগে তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করেন— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই উক্তির মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলমুক্তির চূড়ান্ত ডাক দেন এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালির জাতীয় জীবনে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল দিকনির্দেশনা।
বঙ্গবন্ধু তাঁর এই ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পাকিস্তানি জান্তার শোষণ, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি একই সঙ্গে চার দফা দাবি পেশ করেন এবং দাবি না মানা পর্যন্ত সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা এবং যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং তাদের মধ্যে স্বাধীনতা অর্জনের অদম্য স্পৃহা সৃষ্টি করেছিল। এটি ছিল একটি রণকৌশলগত ভাষণ— একদিকে তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত হননি, অন্যদিকে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত নির্দেশও পৌঁছে দিয়েছেন। ইউনেস্কো ২০১৭ সালে এই ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ছিল অনন্য ও চিরন্তন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও