ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

রাজা প্রথম জর্জ ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। সু কমতা গ্রহণের পরই তিনি রাজতন্ত্রের সুদৃঢ়করণের স্বার্থে সংস্কারমূলক কার্যক্রমে হাত দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনকে ঢেলে সাজান। এছাড়া স্টটল্যান্ড, স্কশায়ার, ম্যানচেস্টার প্রভৃতি কান্ট্রিতে নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেন। ক্ষেত্রবিশেষে উদারতা হিসেবে তিনি রাজতন্ত্রের জাঁকজমকতা ও আড়ম্বরতায় বিশ্বাসী ছিলেন।

  1. ক)

    মুসলিম নৌ-বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা কোন খলিফা?

    (1)
  2. খ)

    জিজিয়া' কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    রাজা প্রথম জর্জের শাসননীতির সাথে খলিফা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) শাসন নীতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে খলিফা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) প্রশাসনিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুসলিম নৌ-বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) (বাস্তবে তাঁর অনুমতিতে আমীর মুয়াবিয়া নৌবাহিনী গঠন করেন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'জিজিয়া' হলো ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের (জিম্মি) জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার বিনিময়ে ধার্যকৃত সামরিক নিরাপত্তা কর।

    ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ করতে হতো না। তাই তাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর বর্তাত, যার বিনিময়ে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের কাছ থেকে এই কর আদায় করা হতো। নারী, শিশু, সন্ন্যাসী ও দরিদ্ররা এই কর থেকে মুক্ত ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাজা প্রথম জর্জের শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা ও আড়ম্বরপূর্ণ রাজতন্ত্রের নীতির সাথে উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসননীতির স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের রাজা প্রথম জর্জ ক্ষমতা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার করেন এবং রাজকীয় জাঁকজমকতা ও আড়ম্বরে বিশ্বাসী ছিলেন। একইভাবে হযরত মুয়াবিয়া (রা.) খেলাফতকে রাজতন্ত্রে রূপান্তর করে দামেস্কে জাঁকজমকপূর্ণ রাজপ্রাসাদ, দেহরক্ষী বাহিনী এবং দরবারি প্রথা চালু করেন। তিনি বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাইজেন্টাইন ও পারস্য রীতির অনুকরণে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন, যা রাজা প্রথম জর্জের শাসননীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর প্রশাসনিক সংস্কার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি তৎকালীন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ইসলামী প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নতুন ও সুদৃঢ় কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন।

    ১. কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক বিভাগ (মন্ত্রণালয়) প্রতিষ্ঠা: রাজা প্রথম জর্জের মতো মুয়াবিয়া (রা.) প্রশাসনকে সুসংগঠিত করতে 'দেওয়ান-উল-বারিদ' (ডাক ও গোয়েন্দা বিভাগ), 'দেওয়ান-উল-খাতাম' (রাজকীয় সীলমোহর বা রেজিস্ট্রি বিভাগ) এবং 'দেওয়ান-উল-খারাজ' (রাজস্ব বিভাগ) প্রতিষ্ঠা করেন।
    ২. রাজতান্ত্রিক জাঁকজমক ও নিরাপত্তা: তিনি খলিফার নিরাপত্তার স্বার্থে বডিগার্ড (হারাস) এবং নামাজের জন্য বিশেষ সুরক্ষিত স্থান (মাকসুরা) প্রবর্তন করেন।
    ৩. সামরিক ও নৌ সংস্কার: তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধের জন্য একটি শক্তিশালী স্থায়ী সেনাবাহিনী এবং মুসলিম জাহানের প্রথম নৌবাহিনীকে কার্যকর শক্তিতে রূপান্তর করেন।
    ৪. প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ: সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল বা প্রদেশে যোগ্য গভর্নর নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রীয় খিলাফতের কর্তৃত্ব সুসংহত করেন।

    সুতরাং, আমীর মুয়াবিয়া (রা.) খোলাফায়ে রাশেদিনের সরল শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন