সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অগবার্নের মতে সংস্কৃতির ধরনসমূহ কী কী?

    (1)
  2. খ)

    সংস্কৃতি একটি জীবনপ্রণালি- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের ক্ষেত্রে কোন বিজ্ঞানটি যথাযথ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশে উক্ত বিজ্ঞানের বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত কোন ব্যক্তির অবদান সর্বাধিক? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজবিজ্ঞানী ডব্লিউ. এফ. অগবার্নের (W. F. Ogburn) মতে সংস্কৃতির ধরন দুটি: ১. বস্তুগত সংস্কৃতি (Material culture) এবং ২. অবস্তুগত সংস্কৃতি (Non-material culture)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংস্কৃতি হলো মানুষের সামগ্রিক জীবনপ্রণালি বা জীবনযাপনের উপায়।

    নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলরের মতে, সংস্কৃতি হলো সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইন, রীতিনীতি এবং অন্যান্য অভ্যাস ও সামর্থ্যের এক জটিল সমষ্টি। মানুষ সমাজে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে যা কিছু চিন্তা করে, বিশ্বাস করে এবং আচরণ করে—তার সামগ্রিক রূপই হলো সংস্কৃতি। মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, ভাষা, আচার-অনুষ্ঠান, মূল্যবোধ ইত্যাদির সমন্বয়ে জীবনযাত্রার সার্বিক ধারাটি গড়ে ওঠে বলেই সংস্কৃতিকে জীবনপ্রণালি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের ক্ষেত্রে 'সমাজবিজ্ঞান' (Sociology) বিষয়টি যথাযথ।

    উদ্দীপকের চিত্রে চারজন তাত্ত্বিক ও শিক্ষাবিদের নাম দেখা যায়—অজিত কুমার সেন, এ. কে. নাজমুল করিম, লেভি স্ট্রস এবং পিয়েরি বেসাইনি। তাঁরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশে একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞান চালুর ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    ১৯৫০ সালে ইউনেস্কোর এক বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিনিধি হিসেবে ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি-স্ট্রস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন এবং বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এরপর ১৯৫৭ সালে ড. পিয়েরি বেসাইনির নেতৃত্বে এবং অজিত কুমার সেন ও এ. কে. নাজমুল করিমের সক্রিয় সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের ক্ষেত্র হিসেবে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজবিজ্ঞান নির্দেশ করাই সম্পূর্ণ সংগত ও যথাযথ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের অবদান সর্বাধিক।

    ড. এ. কে. নাজমুল করিমকে বাংলাদেশের ‘সমাজবিজ্ঞানের জনক’ বলা হয়। উদ্দীপকের লেভি স্ট্রস এবং ড. বেসাইনি বিদেশি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠায় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে অধ্যাপক অজিত কুমার সেনও প্রাথমিক পর্যায়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠের ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। তবে বিষয়টিকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে স্থায়ী রূপ দেওয়া, পাঠ্যসূচি প্রণয়ন এবং এই অঞ্চলের বাস্তবতার আলোকে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার ধারা উন্মোচনে ড. নাজমুল করিমের অবদান অনন্য।

    ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত মজবুত করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Changing Society in India and Pakistan’ (১৯৫৬) এবং ‘The Dynamics of Bangladesh Society’ এ দেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস, গ্রামীণ কাঠামো ও মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ বিশ্লেষণে পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। তিনি দেশীয় সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সমাজবিজ্ঞান চর্চার দ্বার উন্মোচন করেন এবং বহু গবেষক ও শিক্ষক তৈরি করেন।

    অতএব, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা এবং অ্যাকাডেমিক গবেষণার দিক বিবেচনায় বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে ড. এ. কে. নাজমুল করিমের ভূমিকাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন