ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল?
- খ)(2)
৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক কোন সরকারকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত সরকারের অবদান পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তা ছিল কার্যত বাঙালি জাতির স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা ও মুক্তির ডাক।
এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তাঁর বিখ্যাত উক্তি—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল। আন্তর্জাতিকভাবেও এই ভাষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য (Memory of the World International Register) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' চিহ্নিত স্থানটিতে বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা 'মুজিবনগর সরকার' (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার)-কে বোঝানো হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বর আক্রমণ শুরু করার পর স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি বৈধ সরকারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ছকে প্রদর্শিত তথ্যানুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়া গ্রামে (বর্তমান মুজিবনগর) এই সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে এই সরকার গঠিত হয়েছিল। তাই উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে '?' চিহ্নিত সরকারটি হলো ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের অবদান ছিল অপরিসীম ও নেতৃত্বমূলক। এই সরকার গঠিত হওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ একটি সংগঠিত রূপ পায়।
প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধকে সফলভাবে পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে এবং প্রতিটি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করে। কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ফলে মুক্তিবাহিনী সুসংগঠিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন, কূটনৈতিক সমর্থন আদায় এবং শরণার্থীদের সহায়তায় মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাসীর সমর্থন ও সহানুভূতি আদায় করা হয়, যা পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে সহায়তা করে।
তৃতীয়ত, এই সরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করত।
সুতরাং, মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র জারি করে যেমন মুক্তিযুদ্ধের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বৈধতা নিশ্চিত করেছিল, তেমনি সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সফল নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করে বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও