ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
পূর্ব ইউরোপের একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের অন্তঃসারশূন্য আদর্শ, নেতৃবৃন্দের দুর্বলতা, বিপর্যস্ত অর্থনীতি এবং পুজিবাদী বিশ্বের হাতছানিতে একজন করেন। তার উদারনৈতিক সংস্কার ও খোলামেলা নীতিতে রাষ্ট্রটির সংকটের অবসান হলেও এর ভাঙন রোধ করা যায়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে কতগুলো স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় এবং পূর্বতন রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটে
- ক)(1)
'শান্তির কোনো বিকল্প হয় না'- উক্তিটি কার ?
- খ)(2)
পোল্যান্ডে কমিউনিস্ট শাসনের অবসানে 'লেস ওয়ালেসার' ভূমিকা বুঝিয়ে লেখো ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃহৎ রাষ্ট্রটির বিলুপ্তির কারণ পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত বৃহৎ রাষ্ট্রের বিলুপ্তিতে উত্ত উদারনৈতিক শাসকের দায়িত্ব কতটুকু ছিল? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'শান্তির কোনো বিকল্প হয় না' (There is no alternative to peace)—উক্তিটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সংস্কারবাদী নেতা মিখাইল গর্বাচেভের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পোল্যান্ডে কমিউনিস্ট শাসনের অবসানে লেক ওয়ালেসা (Lech Wałęsa) নেতৃত্বাধীন 'সলিডারিটি' (Solidarity) ট্রেড ইউনিয়ন ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। ১৯৮০-এর দশকে গদানস্ক শহরের ডকইয়ার্ড থেকে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই অহিংস শ্রমিক আন্দোলন দ্রুত একটি ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওয়ালেসার আন্দোলন ১৯৮৯ সালে পোল্যান্ডে প্রথম অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিউনিস্ট সরকারকে বাধ্য করে এবং সেখানে অবসান ঘটে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত কমিউনিস্ট শাসনের।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃহৎ রাষ্ট্রটি হলো সাবেক 'সোভিয়েত ইউনিয়ন' (USSR)। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পেছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ দায়ী ছিল:
১. অর্থনৈতিক বিপর্যয়: অতিমাত্রায় সামরিকীকরণ, অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত অকার্যকর অর্থনীতির ফলে ভোগ্যপণ্যের চরম সংকট দেখা দেয় এবং জীবনযাত্রার মান ভেঙে পড়ে।
২. আদর্শিক ও রাজনৈতিক স্থবিরতা: কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব, আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাবে দল ও শাসনব্যবস্থা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
৩. উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান: সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রজাতন্ত্রে (যেমন—বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ, ইউক্রেন, জর্জিয়া) দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও জাতীয়তাবাদী মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে।
৪. গর্বাচেভের সংস্কার নীতির প্রতিক্রিয়া: মিখাইল গর্বাচেভ প্রবর্তিত 'গ্লাসনস্ত' (উন্মুক্ততা) ও 'পেরেস্ত্রোইকা' (পুনর্গঠন) নীতি সোভিয়েত সমাজে এতদিন চেপে রাখা ক্ষোভ ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে প্রকাশ্যে আসার সুযোগ করে দেয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা আর সম্ভব হয়নি। ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত উদারনৈতিক শাসক হলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মিখাইল গর্বাচেভ। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তিতে তাঁর নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলেছিল, তবে এককভাবে তাঁর ওপর সমস্ত দায় চাপানো যায় না।
গর্বাচেভের দায়িত্বের মাত্রা:
১. তড়িঘড়ি সংস্কার প্রয়োগ: গর্বাচেভ তাঁর 'গ্লাসনস্ত' (খোলামেলা নীতি) ও 'পেরেস্ত্রোইকা' (অর্থনৈতিক পুনর্গঠন) নীতি চালু করে সমাজ ও রাজনীতিতে রাতারাতি পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়া এই সংস্কার অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা এবং মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করে সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়।
২. জাতীয়তাবাদের বিস্ফোরণ: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পাওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে উগ্র জাতীয়তাবাদ মাথাচাড়া দেয় এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, যা রোধে তিনি ব্যর্থ হন।
৩. দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও দুর্বল নেতৃত্ব: কট্টরপন্থী কমিউনিস্ট এবং অতি-সংস্কারবাদী (যেমন বরিস ইয়েলৎসিনের অনুসারী)—উভয় পক্ষের টানাপোড়েনে তিনি মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ১৯৯১ সালের আগস্ট বিপ্লবের পর কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।তবে তাঁর উদ্দেশ্য রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা ছিল না, বরং আধুনিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে রক্ষা করা ছিল। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা, স্নায়ুযুদ্ধের চাপ এবং পূর্বতন কমিউনিস্ট নেতৃত্বের ব্যর্থতাও এর জন্য সমানভাবে দায়ী ছিল। তবুও তৎকালীন শাসক হিসেবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনে মিখাইল গর্বাচেভের নীতি ও নেতৃত্ব অনেকাংশেই দায়ী ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও