ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ সেনাপতিদের রণনিপুণতায় তিনি বিশাল ভূখণ্ডের অধিকারী হন।
- ক)(1)
উমাইয়াদের প্রথম খলিফা কে?
- খ)(2)
ডোম অব দি রক কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকাণ্ড সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্ল খলিফার তিনটি মহাদেশে অভিযান বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খিলাফতের প্রথম খলিফা ছিলেন হজরত মুয়াবিয়া (রা.)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ডোম অব দি রক' (কুব্বাত আস-সাখরা) হলো জেরুজালেমে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও সুদৃশ্য গম্বুজবিশিষ্ট ইসলামিক সৌধ।
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ৬৯১ খ্রিস্টাব্দে আল-আকসা মসজিদের নিকটে একটি পবিত্র পাথরের ওপর এই সৌধটি নির্মাণ করেন। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) মেরাজে গমনের প্রাক্কালে যে পাথরে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই স্মৃতিকে স্মরণীয় রাখতে এটি নির্মিত হয়। এটি ইসলামি স্থাপত্যকলার অন্যতম প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাসক চেঙ্গিস খানের সাথে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তার ও সামরিক কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চেঙ্গিস খান তাঁর সুদক্ষ সেনাপতিদের রণকৌশল ও বীরত্বের ওপর নির্ভর করে একটি সুবিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একইভাবে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদ তাঁর শাসনামলে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, মুহাম্মদ বিন কাসিম, কুুতায়বা বিন মুসলিম এবং তারিক বিন জিয়াদ ও মুসা বিন নুসায়েরের মতো জগদ্বিখ্যাত ও দক্ষ সেনাপতিদের মাধ্যমে খিলাফতের সীমান্ত বহুগুণে সম্প্রসারিত করেছিলেন।
প্রথম আল-ওয়ালিদের সময়েই মুসলিম সাম্রাজ্য সিন্ধু থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া ও স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। খলিফা স্বয়ং রণক্ষেত্রে না গিয়ে তাঁর প্রতিভাবান সেনাপতিদের ওপর নির্ভর করে সাম্রাজ্য বিস্তারের যে নীতি নিয়েছিলেন, তার সাথে উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সামরিক কর্মকাণ্ডের ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের আমলে মুসলিম খিলাফত এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপ—এই তিনটি মহাদেশে বিস্তৃত হয়ে এক বিশাল সাম্রাজ্যে রূপ নেয়। নিচে তাঁর ত্রিমুখী অভিযানসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. এশিয়া মহাদেশে অভিযান: ওয়ালিদের নির্দেশে পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ মুহাম্মদ বিন কাসিমকে ভারতবর্ষে প্রেরণ করেন। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু ও মুলতান জয় করে ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। একই সময়ে মধ্য এশিয়ায় সেনাপতি কুতায়বা বিন মুসলিম অভিযান চালিয়ে বুখারা, সমরকন্দ, খোয়ারিজম, ফারগানা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জয় করে ইসলামি খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত করেন।
২. আফ্রিকা মহাদেশে অভিযান: উত্তর আফ্রিকায় মুসা বিন নুসায়ের বর্বরদের বিদ্রোহ দমন করেন এবং আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী মরক্কো পর্যন্ত সমগ্র উত্তর আফ্রিকার ওপর খিলাফতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ইসলামি শাসনকে সুসংহত করেন এবং স্থানীয় বারবারদের ইসলামে দীক্ষিত করেন।
৩. ইউরোপ মহাদেশে অভিযান: আফ্রিকা জয়ের পর মুসা বিন নুসায়েরের নির্দেশে ৭১১ খ্রিস্টাব্দে বীর সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে স্পেনে প্রবেশ করেন। গুয়াডালেটের যুদ্ধে গথরাজ রডারিককে পরাজিত করে কর্ডোভা, টলেডোসহ প্রায় সমগ্র স্পেন মুসলিম শাসনের অধীনে আনেন। পরবর্তীতে মুসা বিন নুসায়েরও স্পেনে গিয়ে বিজয়াভিযান পূর্ণ করেন।
অতএব, প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনামলে ইসলামি সাম্রাজ্য পশ্চিমে আটলান্টিক ও স্পেন (ইউরোপ), দক্ষিণে উত্তর আফ্রিকা এবং পূর্বে চীন সীমান্ত ও সিন্ধু নদ (এশিয়া) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসের এক বিরল ও স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও