ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯১৮ সালে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক নেতা ভ.ই. লেনিন স্বীয় রাজধানী পেট্রোগ্রাড থেকে অধিকতর নিরাপদ স্থান মস্কোতে স্থানান্তর করেন। মস্কো অপেক্ষাকৃত কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বহিঃশত্রুর আক্রমণের আশংকা কম ছিল। তাছাড়া পেট্রোগ্রাড সুবিধাভোগী শ্রেণির নিরাপদ অভয়ারণ্য হওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। এরপর লেনিন দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি হাতে নেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের পূর্ণতা বিধানই যার মূল লক্ষ্য ছিল।
- ক)(1)
কোন নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
অজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতাই ছিল সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের অন্যতম কারণ- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকের গৃহীত কর্মকাণ্ডই প্রতিপক্ষের মনে সন্দেহ ও অসন্তোষের জন্ম দেয়- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাগীরথী নদীর তীরে ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা, কূটনীতির অভাব ও অতিরিক্ত সরলমনা বিশ্বাসই ছিল তাঁর পতনের অন্যতম প্রধান কারণ।
নবাব সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই তাঁর খালা ঘসেটি বেগম, শওকত জং এবং প্রধান সেনাপতি মীর জাফরসহ দরবারের অনেকেই ইংরেজদের সাথে মিলে চক্রান্ত শুরু করে। সিরাজ-উদ-দৌলা চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করতে পারলেও তাদের বিরুদ্ধে সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে মীর জাফরের বারবার বিশ্বাসঘাতকতা সত্ত্বেও পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার পর তাকে পুনরায় বিশ্বাস করা নবাবের চরম অদূরদর্শিতা ছিল। এই দুর্বলতা ও অদূরদর্শিতার সুযোগ নিয়েই ইংরেজরা পলাশীর যুদ্ধে বিজয় লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের লেনিনের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের বাংলার নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শাসক লেনিন রাজধানী পেট্রোগ্রাড থেকে নিরাপদ স্থান মস্কোতে স্থানান্তর করেন এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সমৃদ্ধ করতে অর্থনৈতিক সংস্কার করেন। বাংলার নবাব মীর কাশিমও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণ ও গোপন ষড়যন্ত্র থেকে দূরে থাকার জন্য এবং নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে তাঁর রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে নিরাপদ দূরত্বে মুঙ্গের-এ স্থানান্তর করেন।
পাশাপাশি, নবাব মীর কাশিম ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কার করেন, অভ্যন্তরীণ শুল্ক বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আনেন এবং রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজকোষ সমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেন। সুতরাং, রাজধানী স্থানান্তর ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিক থেকে মীর কাশিমের সাথে লেনিনের পদক্ষেপের স্পষ্ট মিল পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি নবাব মীর কাশিমের গৃহীত স্বাধীনচেতা কর্মকাণ্ডই প্রতিপক্ষ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মনে সন্দেহ ও চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছিল।
নবাব মীর কাশিম একজন স্বাধীনচেতা ও দূরদর্শী শাসক ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, মুর্শিদাবাদে ইংরেজদের প্রভাব ও দেশীয় বিশ্বাসঘাতকদের কারণে স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা অসম্ভব। তাই তিনি রাজধানী মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন, দুর্গ সংস্কার করেন এবং ইউরোপীয় আদলে আধুনিক সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি বন্দুক ও গোলাবারুদ তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। এসব সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি ইংরেজ কোম্পানিকে মারাত্মকভাবে শঙ্কিত করে তোলে।
তদুপরি, ইংরেজ কোম্পানির কর্মচারীরা 'দস্তক' বা বিনাশুল্কে বাণিজ্যের সুবিধার অপব্যবহার করে দেশীয় বণিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছিল এবং নবাবের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছিল। নবাব এ বৈষম্য দূর করতে সকল অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যশুল্ক তুলে নেন। এর ফলে ইংরেজদের একচেটিয়া বাণিজ্যের আধিপত্য খর্ব হয় এবং তারা চরম অসন্তুষ্ট হয়। ইংরেজরা বুঝতে পারে মীর কাশিম তাদের পুতুল শাসক হয়ে থাকবেন না।
ফলশ্রুতিতে ইংরেজরা নবাব মীর কাশিমকে ক্ষমতাচ্যুত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল কাটোয়া, গিরিয়া ও উদয়নালাসহ বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪)। সুতরাং, নবাবের এসব আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক ও স্বাধীনচেতা কর্মকাণ্ডই ইংরেজদের সাথে তাঁর বিরোধের মূল কারণ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও