ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
বার্মার শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক অত্যাচার, নির্যাতন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি ও ফসল পোড়ানোর শিকার হয়ে ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সরকার মানবিক কারণে এই সকল রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা দিয়ে তাদের সহযোগিতা। করেছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন তাদেরকে সাহাদ্য প্রদানে এগিয়ে এসেছে।
- ক)(1)
মদিনার পূর্ব নাম কী?
- খ)(2)
মজলিশ-উস-শুরা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রোহিঙ্গাদের সাথে মুহাম্মদ (স) সময়কার কোন। ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনায় মুহাজির ও আনসারদের ভূমিকা মূল্যায়ন করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মদিনার পূর্ব নাম ছিল 'ইয়াসরিব' (Yathrib)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত উপদেষ্টা পরিষদকে 'মজলিশ-উস-শুরা' বা পরামর্শ সভা বলা হয়।
ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় খলিফারা স্বৈরাচারী ছিলেন না; বরং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। কুরআন ও হাদিসের নির্দেশের আলোকে গঠিত এই মজলিস খলিফাকে প্রশাসনিক, সামরিক ও বিচার বিভাগীয় কাজে পরামর্শ প্রদান করত। এর মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রোহিঙ্গাদের সাথে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়কার মক্কা থেকে মদিনায় 'হিজরত'-এর ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশদের অসহনীয় নির্যাতন, জুলুম এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মহানবি (সা.) ও তাঁর অনুসারী সাহাবিগণ দ্বীন রক্ষার উদ্দেশ্যে নিজেদের ভিটেমাটি ত্যাগ করে মদিনায় আশ্রয় নেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ইসলামে 'হিজরত' বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বার্মার শাসকগোষ্ঠীর চরম অত্যাচার, নির্যাতন ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা মাতৃভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের সাহায্য করছে। একইভাবে মক্কার মুসলমানদের উপর অমানবিক অত্যাচারের কারণে তাঁরা স্বদেশ ত্যাগ করে মদিনায় চলে যান এবং মদিনাবাসী তাঁদের আশ্রয় দেন। সুতরাং, উভয় ঘটনাতেই নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশত্যাগের ও আশ্রয়ের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত হিজরতের ঘটনায় মুহাজির ও আনসারদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।
মক্কা থেকে যেসব মুসলমান ঈমান রক্ষার তাগিদে সব সহায়-সম্পদ ফেলে নিঃস্ব অবস্থায় মদিনায় এসেছিলেন, তাঁদের 'মুহাজির' বলা হয়। অন্যদিকে মদিনার যেসব স্থানীয় মুসলমান তাঁদেরকে পরম আদরে আশ্রয় দেন এবং সকল প্রকার সাহায্য করেন, তাঁদের 'আনসার' বা সাহায্যকারী বলা হয়।
হিজরতের পর মহানবি (সা.) মুহাজির ও আনসারদের মাঝে অভূতপূর্ব 'ভ্রাতৃত্ব বন্ধন' (মুওয়াখাত) স্থাপন করেন। আনসাররা নিজেদের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও অর্থসম্পদের অর্ধেক নিঃসংকোচে মুহাজির ভাইদের দান করেছিলেন। আর মুহাজিররাও আনসারদের ওপর স্থায়ী বোঝা না হয়ে নিজ পরিশ্রমে দ্রুত স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। আনসারদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং মুহাজিরদের আত্মমর্যাদাবোধ ও সততা মদিনায় প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিতকে সুদৃঢ় করেছিল। বিশ্ব ইতিহাসে এমন নিঃস্বার্থ পরোপকার ও ভ্রাতৃত্বের নজির বিরল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও