ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' ঢাকার সাভারে একটি শিল্প কারখানায় কাজ করেন। যেখানে শার্ট, প্যান্ট, সুয়েটার ইত্যাদি তৈরি হয়।
- ক)(1)
লৌহ ও ইস্পাত শিল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
শিল্পায়নে কাঁচামালের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্প বাংলাদেশে গড়ে উঠার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিল্পটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লৌহ আকরিক গলিয়ে এবং কার্বন ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ইস্পাত ও লৌহজাত বিভিন্ন দ্রব্য তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ভারী শিল্পকে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পকারখানায় কোনো পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রাথমিক উপকরণ হিসেবে কাঁচামালের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল ছাড়া কোনো শিল্পই উৎপাদনে যেতে পারে না। যেমন—বস্ত্র শিল্পের জন্য তুলা বা সুতা এবং চিনি শিল্পের জন্য আখ অপরিহার্য। কাঁচামালের সহজলভ্যতা, গুণগত মান এবং পরিবহন খরচের ওপরই শিল্পের অবস্থান ও পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে নির্ভর করে। তাই শিল্পায়নের জন্য কাঁচামাল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শার্ট, প্যান্ট, সুয়েটার তৈরির শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস শিল্প)। বাংলাদেশে এ শিল্প গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সস্তা ও সহজলভ্য শ্রম: বাংলাদেশে বিপুল জনসংখ্যা রয়েছে এবং এখানে অত্যন্ত সুলভে দক্ষ ও আধা-দক্ষ নারী ও পুরুষ শ্রমিক পাওয়া যায়। পোশাক শিল্প শ্রমঘন হওয়ায় কম মজুরির সুবিধা এ শিল্প বিকাশে প্রধান চালিকাশক্তি।
২. আন্তর্জাতিক বাজারের কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা: বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য উন্নত দেশ থেকে জিএসপি (GSP) ও শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পেয়ে এসেছে, যা এই শিল্পের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে।
৩. সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুকূল নীতিমালা: সরকার কর্তৃক বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবস্থা এবং নগদ প্রণোদনা প্রদানের ফলে উদ্যোক্তারা পোশাক খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়েছেন।
৪. উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও অনুকূল বাণিজ্য পরিবেশ: দেশে বন্দর সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমান্বয়ে উন্নতির ফলে এ শিল্পের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ হয়েছে। এসব অনুকূল ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি ও চালিকাশক্তি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (৮০ শতাংশেরও বেশি) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করে এবং অন্যান্য খাতের আমদানি ব্যয় মেটাতে সাহায্য করে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এ খাতে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশই সুবিধাবঞ্চিত নারী। এর ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে এবং সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।
৩. সহযোগী শিল্পের বিকাশ: পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে দেশে টেক্সটাইল, ডাইং, স্পিনিং, প্যাকেজিং, পরিবহন, ব্যাংকিং ও বীমা খাতের মতো বহু সংযোগ শিল্প (লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি) গড়ে উঠেছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করেছে।
৪. জাতীয় আয় ও জিডিপিতে অবদান: বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রত্যক্ষ অবদান অপরিসীম।
পরিশেষে বলা যায়, কর্মসংস্থান তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে উদ্দীপকের তৈরি পোশাক শিল্পটি বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ও অপরিহার্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও