ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ইলখানি সুলতান গাজান খান একজন প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সকল প্রকার অন্যায় কর নিষিদ্ধ করেন। তার শাসননীতি ছিল প্রজাকল্যাণ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা। তিনি অত্যন্ত ন্যায়বান সচ্চরিত্রের অধিকারী, পরিশ্রমী শাসক ছিলেন সত্য, তবে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরোধিতা, বহু জাতির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের দুর্বলতা, ইলখানিদের প্রতি বিরূপ মনোভাব ইত্যাদি কারণে ইলখানি সাম্রাজ্যটি খুব স্থায়ী হয়নি।
- ক)(1)
কত সালে উমাইয়া খিলাফতের পতন হয়?
- খ)(2)
কোন উমাইয়া খলিফাকে আশীর্বাদের চাবি বলা হতো এবং কেন?
- গ)(3)
গাজান খানের শাসননীতির সাথে কোন উমাইয়া খলিফার শাসননীতির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বর্ণিত কারণগুলোর আলোকে উমাইয়া খিলাফতের পতনের কারণগুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭৫০ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খিলাফতের পতন হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা সুলায়মান ইবনে আবদুল মালিককে 'আশীর্বাদের চাবি' বা 'মিফতাহুল খাইর' বলা হতো।
তিনি মৃত্যুর পূর্বে কোনো অযোগ্য বা নিজের বংশের কাউকে নয়, বরং অত্যন্ত পরহেজগার, ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান ব্যক্তিত্ব হযরত ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.)-কে খিলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান। তাঁর এই মহৎ সিদ্ধান্তের কারণে মুসলিম উম্মাহ একজন আদর্শ শাসক লাভ করে, যার জন্য তাঁকে 'আশীর্বাদের চাবি' আখ্যা দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান গাজান খানের প্রজাকল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক শাসননীতির সাথে উমাইয়া খলিফা হযরত ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.)-এর শাসননীতির গভীর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত গাজান খান প্রজাদের কল্যাণে অন্যায় কর বাতিল করেন এবং ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করেন। একইভাবে খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) উমাইয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে অনৈসলামিক কর ও নবদীক্ষিত মুসলমানদের (মাওয়ালি) ওপর ধার্যকৃত অন্যায় জিজিয়া কর বাতিল করেন। তিনি বায়তুল মালের অর্থ প্রজাসাধারণের কল্যাণে ব্যয় করেন এবং সাম্রাজ্যজুড়ে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই জনকল্যাণমুখী সংস্কার ও আদর্শিক চরিত্রের কারণেই উদ্দীপকের গাজান খানের সাথে তাঁর নীতির সুস্পষ্ট সাদৃশ্য দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্রাজ্যের বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরোধিতা, বহু জাতির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং প্রজাসাধারণের বিরূপ মনোভাব উমাইয়া খিলাফতের পতনের ক্ষেত্রেও হুবহু প্রতিফলিত হয়েছিল।
১. বিভিন্ন মতাবলম্বী ও দলের বিরোধিতা: উমাইয়াদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই শিয়া ও খারিজি সম্প্রদায় তীব্র বিরোধিতা ও বিদ্রোহ চালিয়ে যায়। কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনা শিয়াদের মনে উমাইয়াদের প্রতি চিরস্থায়ী ক্ষোভ তৈরি করে।
২. বহু জাতির অসন্তোষ ও মাওয়ালি সমস্যা: উদ্দীপকে যেমন বহু জাতির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে, তেমনি উমাইয়া সাম্রাজ্যে অনারব মুসলমান বা মাওয়ালিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হতো। তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হয়ে শেষ পর্যন্ত উমাইয়াদের বিরুদ্ধে আব্বাসীয়দের সাথে একাত্ম হয়।
৩. আব্বাসীয় প্রচার ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন: আব্বাসীয়রা গোপনে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে এবং শিয়া, মাওয়ালি ও অন্যান্য অসন্তুষ্ট দলকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে।
৪. পরবর্তী শাসকদের অযোগ্যতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল: মুদার ও হিমারীয় আরব গোত্রীয় দ্বন্দ্ব এবং শেষ দিকের উমাইয়া খলিফাদের বিলাসিতা ও অদক্ষতা শাসনযন্ত্রকে পঙ্গু করে দেয়।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত কারণগুলোর মতোই বিভিন্ন রাজনৈতিক-ধর্মীয় দলের প্রচণ্ড বিরোধিতা, অনারব প্রজাদের অসন্তোষ এবং সামগ্রিক জনবিক্ষোভের ফলেই ঐতিহাসিক জাবের যুদ্ধে (৭৫০ খ্রি.) উমাইয়া খিলাফতের চূড়ান্ত পতন ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও