ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সর্বধর্মী মতবাদের প্রবস্তুা শ্রী আনন্দ স্বামী। তিনি অস্টাদশ শতাব্দীতে ত্রিপুরা জেলার সরাইল পরগনার কালিকচ্ছ গ্রামে এক কৌলিন জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জমিদারের দায়িত্ব পালনকালে প্রজাদের ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও আন্তঃধর্মবিবাদ তাঁকে চিন্তামগ্ন করে তোলে। ধর্ম নিয়ে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ইসলাম, সনাতন ও খ্রিস্টধর্মের সমন্বয়ে। 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রবর্তন করতে সক্রিয় হন। তার এ 'সর্বধর্ম' মতবাদে প্রকৃত মানবতার আহ্বান থাকলেও তিনি ধর্মভীরু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি। তবে এর মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের আস্থাঅর্জনে সক্ষম হন।
- ক)(1)
'মনসব' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
কবুলিয়ত ও পাট্টা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের কোন নীতির সাদৃশ্য পাওয়া যায়? উত্ত নীতির মতবাদসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ব্যক্তির সর্বধর্ম মতবাদ প্রবর্তন ও সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা পদমর্যাদাক্রমে অবস্থান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবুলিয়ত ও পাট্টা হলো শেরশাহ প্রবর্তিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
পাট্টা ছিল সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের দেওয়া একটি স্বত্বপত্র, যাতে জমির ওপর কৃষকের অধিকার, জমির পরিমাণ এবং দেয় খাজনার পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকত। আর কবুলিয়ত ছিল কৃষকদের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রদত্ত একটি অঙ্গীকারপত্র বা সম্মতিপত্র, যেখানে কৃষক নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা নিয়মমাফিক পরিশোধ করতে সম্মত হতো। এই ব্যবস্থার ফলে কৃষকের ভূমির অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের শোষণ বন্ধ হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রী আনন্দ স্বামীর কার্যক্রমের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত সমন্বয়বাদী ধর্মনীতি 'দীন-ই-ইলাহী' বা 'সুলহ-ই-কুল' (সকলের সাথে শান্তি)-এর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে 'দীন-ই-ইলাহী' নামক একটি সার্বজনীন ধর্মীয় মতবাদ ঘোষণা করেন। এই নীতির মূল বৈশিষ্ট্য ও মতবাদগুলো ছিল:
১. ঈশ্বরের একত্ববাদে বিশ্বাস এবং আকবরকে আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে মেনে নেওয়া।
২. সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা (সুলহ-ই-কুল নীতি)।
৩. পারস্পরিক অহিংসা, নৈতিক আচরণ, মানবপ্রেম এবং দানশীলতার ওপর জোর দেওয়া। এতে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ ছিল না এবং জীবহত্যা নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।
উদ্দীপকের আনন্দ স্বামী যেমন বিভিন্ন ধর্মের সমন্বয়ে 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তেমনি সম্রাট আকবরও সাম্রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমন্বয়বাদী 'দীন-ই-ইলাহী' প্রবর্তন করেছিলেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রবর্তন এবং সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি ('দীন-ই-ইলাহী') প্রবর্তনের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উভয়ের লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা হলেও তাঁদের উদ্দেশ্যের পরিধি ও প্রেক্ষাপটে কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান ছিল।
উদ্দীপকের আনন্দ স্বামীর উদ্দেশ্য ছিল পুরোপুরি সামাজিক ও মানবতাবাদী। তিনি প্রজাদের ধর্মভিত্তিক বিভাজন, বিবাদ, রক্তপাত ও হানাহানি বন্ধ করে প্রকৃত মানবতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে কোনো সাম্রাজ্য বিস্তার বা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্য ছিল না।
অন্যদিকে, মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি প্রণয়নের পেছনে মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্য বিদ্যমান ছিল। আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম শাসনকে স্থায়ী করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুসহ সকল ধর্মের মানুষের আনুগত্য ও সক্রিয় সমর্থন প্রয়োজন। তিনি সাম্রাজ্যের সংহতি বৃদ্ধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ দূরীকরণ এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সুসংহত করার রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে এই ধর্মীয় মতবাদ প্রবর্তন করেন।
সুতরাং বলা যায়, আনন্দ স্বামীর উদ্দেশ্য ছিল নিখাদ মানবকল্যাণ ও সামাজিক শান্তি স্থাপন, পক্ষান্তরে সম্রাট আকবরের মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক শান্তির পাশাপাশি নিজের বিশাল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভিত্তি সুদৃঢ় করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও