‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব রুহুল আমীন এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। পুত্র সাজ্জাদ পিতার মৃত্যুর পর দুই বোন আমেনা ও ইরা'কে সম্পত্তি দিতে অস্বীকার করে। আমেনা ও ইরা বাধ্য হয়ে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার রায়ে আমেনা ও ইরা সম্পত্তির অধিকার লাভ করে। সাজ্জাদ তার ভুল বুঝতে পেরে বোনদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে।

  1. ক)

    আইন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মানবাধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আমেনা ও ইরা'কে যে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনায় আইন অধিকারের রক্ষাকবচ- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    সাধারণ অর্থে আইন হলো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত ও কার্যকর এমন কিছু বিধিনিষেধ বা নিয়মের সমষ্টি, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

  2. খ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে সুস্থ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার জন্মগতভাবে প্রাপ্য, সেগুলোকে মানবাধিকার বলে।

    মানবাধিকার ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য এবং এটি কোনো রাষ্ট্রের কৃপা নয়, বরং মানুষের জন্মগত অধিকার। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক 'সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের এই অধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    উদ্দীপকের আমেনা ও ইরাকে সামাজিক বা নাগরিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত 'সম্পত্তির অধিকার' থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

    নাগরিকের সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকা ও আত্মবিকাশের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ স্বীকৃত যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তা-ই অধিকার। আইনগত অধিকারের অন্যতম প্রধান একটি শাখা হলো সামাজিক বা নাগরিক অধিকার। এই অধিকারের আওতায় নাগরিকরা সমাজে স্বাধীনভাবে বসবাস, চুক্তি সম্পাদন এবং আইনসম্মতভাবে সম্পত্তি অর্জন, ভোগদখল ও হস্তান্তর করার সুযোগ পায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পিতা জনাব রুহুল আমীনের মৃত্যুর পর পুত্র সাজ্জাদ তার দুই বোন আমেনা ও ইরাকে পৈতৃক সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রচলিত আইন ও নীতি অনুযায়ী পিতার সম্পত্তিতে কন্যাদের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সাজ্জাদের এই বাধার কারণে আমেনা ও ইরা তাদের ন্যায্য পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    উদ্দীপকের ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, 'আইন অধিকারের রক্ষাকবচ'—উক্তিটি যথার্থ।

    আইন ও অধিকারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং একে অপরের পরিপূরক। অধিকার কেবল ঘোষণার মাধ্যমে কার্যকর হয় না; তা কার্যকর ও সুরক্ষিত রাখতে আইনের শাসন অপরিহার্য। সমাজে সবলরা যাতে দুর্বলের অধিকার হরণ করতে না পারে, সেজন্য আইন উপযুক্ত বিধান তৈরি করে এবং বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে তা প্রয়োগ করে। আইন না থাকলে সমাজে 'জোর যার মুলুক তার' অবস্থা বা অরাজকতা সৃষ্টি হতো।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সাজ্জাদ তার দুই বোনের সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার হরণ করার চেষ্টা করে। আমেনা ও ইরা দুর্বল অবস্থানে থেকেও আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে এবং আদালতে মামলা করে। আদালত আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন এবং আমেনা ও ইরাকে তাদের সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেন। আইন ও আদালতের হস্তক্ষেপে সাজ্জাদও নিজের ভুল বুঝতে পেরে বোনদের নিকট ক্ষমা চায়।

    সুতরাং, আমেনা ও ইরা তাদের হরণকৃত অধিকার কেবল আইনের বিধান ও প্রয়োগের ফলেই পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। অতএব, উদ্দীপকের ঘটনার আলোকে বলা যায় যে আইনই প্রকৃত অর্থে অধিকারের রক্ষাকবচ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন