‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিম ও তার স্ত্রী রাবিয়া একই ইটের ভাটায় কাজ করে। তারা উভয়ে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার পর মজুরি নেওয়ার সময় ম্যানেজার রহিমকে ৫০০ টাকা এবং রাবিয়াকে ৪০০ টাকা করে দেন। অপরদিকে করিম উপজেলার নিকট বাড়ি করার উদ্দেশ্যে ৫ কাঠা জমি ক্রয় করেন। কিছুদিন পর বাড়ি করতে গেলে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মুরাদ বাধা প্রদান করে। করিম এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করলে করিমের বাড়ি করার ব্যবস্থা হয়।

  1. ক)

    মূল্যবোধ কী?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ কেন আইন মান্য করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাবিয়া কোন ধরনের সাম্য হতে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের করিমের বাড়ি নির্মাণে যে স্বাধীনতা লংঘিত হয় তা সুরক্ষায় আইনের অনুশাসনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব চিন্তা-ভাবনা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামগ্রিক আচরণ ও কার্যাবলিকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে, তাকে মূল্যবোধ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ মূলত সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অধিকার ভোগ এবং শাস্তির ভয়ে আইন মান্য করে। রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত আইন ব্যক্তি ও সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আইন অমান্য করলে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া নাগরিক হিসেবে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেও মানুষ আইন মেনে চলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাবিয়া ‘অর্থনৈতিক সাম্য’ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় যোগ্যতা ও কাজ অনুযায়ী উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ এবং অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজব্যবস্থা। এতে কোনো প্রকার লিঙ্গ বা শ্রেণিভেদে মজুরির তারতম্য করা যায় না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিম ও তার স্ত্রী রাবিয়া একই ইটের ভাটায় দৈনিক সমান সময় (৮ ঘণ্টা) কাজ করা সত্ত্বেও মজুরি নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। ম্যানেজার পুরুষ হওয়ার কারণে রহিমকে ৫০০ টাকা এবং নারী হওয়ার কারণে রাবিয়াকে ৪০০ টাকা প্রদান করেন। সমান কাজের জন্য সমান মজুরি না দিয়ে রাবিয়াকে কম পারিশ্রমিক দেওয়ায় সে অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের করিমের বাড়ি নির্মাণে তার ‘নাগরিক/সামাজিক স্বাধীনতা’ (সম্পত্তি ভোগের অধিকার) লঙ্ঘিত হয়েছিল, যা সুরক্ষায় আইনের অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    আইনের অনুশাসন বলতে বোঝায় আইনের চোখে সবাই সমান এবং বিনা বিচারে বা বিনা কারণে কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না করা। যেখানে আইনের শাসন বজায় থাকে, সেখানে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি দুর্বলের ওপর অন্যায় প্রভাব খাটাতে পারে না।

    উদ্দীপকে করিম বৈধভাবে জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে প্রতিবেশী মুরাদ অন্যায়ভাবে তাতে বাধা দেয়। এর ফলে করিমের নিজের সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়। কিন্তু করিম আইনের আশ্রয় নেওয়ার ফলে রাষ্ট্র ও প্রশাসন আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং করিমের বাড়ি করার অধিকার নিশ্চিত করে।

    সুতরাং, আইনের অনুশাসন না থাকলে সবল দুর্বলের অধিকার হরণ করত এবং সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হতো। করিমের অধিকার ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, স্বাধীনতা রক্ষা ও সুরক্ষায় আইনের অনুশাসন অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন