সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রসুলপুর গ্রামের করিম শেখ বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক। তিনি অনেক জমি বর্গা দেন, আবার কিছু জমি ক্ষেতমজুর দিয়ে চাষ করান। সচ্ছল ব্যক্তি করিম শেখের গ্রামে যথেষ্ট প্রভাব-প্রতিপত্তি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা জামালের প্রভাব-প্রতিপত্তিও কম নয়। করিম শেখকে কয়েকবার জমি সংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসার জন্য জামালের কাছে যেতে হয়েছে। এদিকে গ্রামের উচ্চশিক্ষিত তরুণ সমাজকর্মী মাজেদ সম্প্রতি বিপুল ভোটে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে।
- ক)(1)
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা কোনটি?
- খ)(2)
গ্রামীণ সমাজে সামাজিক গতিশীলতা তুলনামূলকভাবে কম কেন?
- গ)(3)
গ্রামীণ সমাজের ভূমিভিত্তিক সামাজিক সামাজি স্তরবিন্যাসে উদ্দীপকের করিম শেখের অবস্থান ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে রসুলপুর গ্রামের ক্ষমতা কাঠামোয় সনাতন উপাদানের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে"- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা হলো কৃষি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ সমাজে সামাজিক গতিশীলতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর সনাতন মূল্যবোধ, ঐতিহ্যনির্ভর সামাজিক কাঠামো এবং পেশাগত বৈচিত্র্যের অভাব। গ্রামীণ সমাজে মূলত বংশমর্যাদা ও ভূমিস্বত্ব নির্ভর আরোপিত মর্যাদার আধিক্য থাকে এবং অধিকাংশ মানুষ কৃষির সাথে যুক্ত থাকায় এক পেশা বা শ্রেণি থেকে অন্য পেশা বা শ্রেণিতে সহজে পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে সামাজিক স্তরবিন্যাস অপেক্ষাকৃত স্থবির ও অনমনীয় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ সমাজের ভূমিভিত্তিক সামাজিক স্তরবিন্যাসে উদ্দীপকের করিম শেখের অবস্থান 'ধনী কৃষক' বা 'ভূস্বামী' (Landlord) শ্রেণিতে।
সমাজবিজ্ঞানী একেএম নূরুল আলম বা পিটার বার্টসির মতো গবেষকদের ভূমিভিত্তিক শ্রেণিবিভাজন অনুসারে গ্রামীণ সমাজে প্রধানত ধনী কৃষক বা জোতদার, মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, বর্গাচাষি এবং ভূমিহীন ক্ষেতমজুর—এই স্তরগুলো দেখা যায়। এই স্তরবিন্যাসে যারা প্রচুর জমির মালিক, নিজেরা সরাসরি কায়িক শ্রমে কৃষিকাজ করেন না বরং জমি বর্গা দেন কিংবা ক্ষেতমজুর দিয়ে চাষ করান এবং যাদের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজে কর্তৃত্ব থাকে, তারা ধনী কৃষক বা ভূস্বামী হিসেবে চিহ্নিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, করিম শেখ রসুলপুর গ্রামের বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক। তিনি নিজে চাষ না করে অনেক জমি বর্গা দেন এবং কিছু জমি ক্ষেতমজুর দিয়ে চাষ করান। এছাড়া তিনি সচ্ছল এবং সমাজে তার যথেষ্ট প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে ভূমিভিত্তিক সামাজিক স্তরবিন্যাসে করিম শেখের অবস্থান গ্রামীণ স্তরবিন্যাসের শীর্ষ পর্যায় অর্থাৎ ধনী কৃষক বা ভূস্বামী শ্রেণিতে পড়ে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রসুলপুর গ্রামের ক্ষমতা কাঠামোয় সনাতন উপাদানের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো নির্ধারিত হতো বংশমর্যাদা, বিপুল ভূসম্পত্তি এবং বয়োজ্যেষ্ঠতার মতো সনাতন বা আরোপিত উপাদানের ভিত্তিতে। যার জমি যত বেশি ছিল, গ্রামে তার প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ তত বেশি বজায় থাকত। কিন্তু আধুনিকায়ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, শিক্ষার প্রসার এবং রাজনৈতিক দল ব্যবস্থার বিস্তারের ফলে বর্তমান গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, রসুলপুর গ্রামের করিম শেখ বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক এবং সচ্ছল ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও জমি সংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসার জন্য তাকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা জামালের দ্বারস্থ হতে হয়। এটি প্রমাণ করে যে কেবল ভূমির মালিকানা বা সনাতন উপাদান দিয়ে এখন আর চূড়ান্ত ক্ষমতা বজায় রাখা যাচ্ছে না; রাজনৈতিক সংযোগ গ্রামীণ রাজনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। আবার, গ্রামের মানুষ উচ্চশিক্ষিত তরুণ সমাজকর্মী মাজেদকে বিপুল ভোটে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। এখানেও সনাতন ভূসম্পত্তি বা বয়সের তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, তারুণ্য ও জনপ্রতিনিধিত্বের মূল্য বেশি প্রতিফলিত হয়েছে।
অতএব, রসুলপুর গ্রামের ক্ষমতা কাঠামোতে এককভাবে ভূমিস্বত্ব বা বংশমর্যাদার মতো সনাতন উপাদানের আধিপত্য ভেঙে রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় আনুগত্য, আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা ও শিক্ষার মতো আধুনিক উপাদানগুলো প্রাধান্য বিস্তার করছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে রসুলপুর গ্রামের ক্ষমতা কাঠামোয় সনাতন উপাদানের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও