কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
কুঁচে মুরগি কী?
- খ)(2)
ডিম অনুর্বরের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্রে প্রদর্শিত মুরগিটি কোন জাতের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্রে প্রদর্শিত মুরগিটি পালন করা কি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক? উত্তরের সপক্ষে তোমার যুক্তি উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব দেশি বা স্থানীয় মুরগি ডিম পাড়ার পর তা তা দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর জন্য প্রবল প্রবণতা দেখায় এবং ডিমে তা দেওয়ার জন্য বসে থাকে, তাকে কুঁচে মুরগি (বা কুঁড়ো মুরগি) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিম অনুর্বর (Infertility) হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
১. প্রজননক্ষম বা সক্রিয় মোরগের অনুপস্থিতি অথবা ঝাঁকে মোরগ ও মুরগির অনুপযুক্ত অনুপাত (অতিরিক্ত মুরগির বিপরীতে মোরগের স্বল্পতা)।
২. মোরগ বা মুরগির বয়স বেশি হওয়া অথবা তাদের পুষ্টিহীনতা (যেমন ভিটামিন-ই ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি)।
৩. প্রজনন অঙ্গের রোগ, অতিমাত্রায় গরম বা প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মোরগ-মুরগির মধ্যকার শারীরিক অক্ষমতা বা অতিরিক্ত মেদ জমার কারণে মিলন সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়া। ফলে ডিম নিষিক্ত হতে পারে না এবং অনুর্বর রয়ে যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে প্রদর্শিত মুরগিটি 'ফাউমি' (Fayoumi) জাতের মুরগি।
ফাউমি জাতের মুরগির উৎপত্তি মূলত মিশরে হলেও এটি ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরেনিয়ান শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শারীরিক গঠন: এদের দেহ তুলনামূলকভাবে ছোট ও চটপটে। এদের ঘাড় ও গলার পালক সাদা বা রুপালি রঙের এবং শরীরের বাকি অংশের পালক সাদা-কালো ডোরাকাটা বা ছিটছিট নকশার হয়ে থাকে।
২. ঝুঁটি ও চোখ: এদের ঝুঁটি একক (Single comb) ও উজ্জ্বল লাল বর্ণের হয়। এদের চোখ বড় এবং সতর্ক দৃষ্টিসম্পন্ন।
৩. চপল স্বভাব: এরা খুবই চটপটে, দ্রুত চলাচল করতে পারে এবং শিকারি প্রাণীর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করতে পারদর্শী।
৪. ডিম উৎপাদন: এরা উৎকৃষ্ট মানের ডিম উৎপাদনকারী জাত হিসেবে পরিচিত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্রে প্রদর্শিত 'ফাউমি' জাতের মুরগি পালন করা অত্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. ডিম উৎপাদন ক্ষমতা: ফাউমি মুরগি বছরে প্রায় ১৫০-২০০টি বা তারও বেশি ডিম দিয়ে থাকে, যা দেশি মুরগির (বছরে ৪৫-৫০টি) তুলনায় অনেক বেশি। এদের ডিমের আকার ও স্বাদ দেশি মুরগির মতো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম বেশি।
২. জলবায়ু সহনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ফাউমি জাতের মুরগি বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার সাথে খুব সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এদের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল, ফলে চিকিৎসার খরচ অনেক কম হয়।
৩. চরে খাওয়ার স্বভাব ও কম খাদ্য খরচ: গ্রামীণ পরিবেশে দেশি মুরগির মতোই এরা মুক্ত বা অর্ধ-মুক্ত অবস্থায় চরে ঘুরে পোকামাকড়, শস্যকণা ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। ফলে বাণিজ্যিক ব্রয়লার বা লেয়ারের মতো অতিরিক্ত ব্যয়বহুল সুষম খাদ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় না।
৪. আত্মরক্ষা ও কম মৃত্যুহার: এরা অত্যন্ত সতর্ক ও দ্রুতগতির হওয়ায় গ্রামীণ পরিবেশে শিয়াল, বেজি, চিল ইত্যাদির হাত থেকে সহজে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, যার ফলে মৃত্যুহার খুব কম।
৫. কুঁচে না হওয়া: এ জাতের মুরগি সচরাচর কুঁচে হয় না, ফলে সারাবছর বিরতিহীনভাবে ডিম উৎপাদন অব্যাহত থাকে।
অতএব, স্বল্প পুঁজিতে বাংলাদেশের গ্রামীণ ও পারিবারিক খামারে ফাউমি মুরগি পালন একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং টেকসই আয়ের উৎস।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও