সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের পূর্বে সম্ভব হয়নি। যদিও সমাজ সম্পর্কিত চিন্তার ইতিহাস, সমাজের মতোই অতি প্রাচীন এবং দীর্ঘদিনের। সমাজবিজ্ঞান একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্বতন্ত্র সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে গড়ে ওঠার ' পেছনে যে সমস্ত চিন্তাবিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে, তাদের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে অন্যতম। যিনি ১৭৯৮ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন
- ক)(1)
কোন শব্দ থেকে 'Sociology' শব্দের উৎপত্তি?
- খ)(2)
আসাবিয়া বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে সমাজবিজ্ঞানীর কথা বলা হয়েছে, তার পরিচয় বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সমাজবিজ্ঞানী সমাজ বিকাশের যে তিনটি স্তরের কথা বলেছেন তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাটিন শব্দ 'Socius' এবং গ্রিক শব্দ 'Logos' থেকে 'Sociology' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আসাবিয়া' (Asabiyyah) হলো মধ্যযুগীয় মুসলিম সমাজচিন্তাবিদ ইবনে খালদুন কর্তৃক প্রদত্ত একটি ধারণা, যার অর্থ 'গোষ্ঠী সংহতি' বা 'গোষ্ঠী চেতনা' (Social Cohesion/Group Solidarity)।
ইবনে খালদুনের মতে, আসাবিয়া হলো এক ধরনের গভীর সামাজিক বন্ধন ও ঐক্যবোধ, যা বিশেষ করে রক্তসম্পর্কিত যাযাবর বা বেদুইন সমাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই ঐক্যবোধ বা সংহতিই কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর উত্থান, রাজ্য জয় এবং নতুন সভ্যতা বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত সমাজবিজ্ঞানী হলেন সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte)।
অগাস্ট কোঁৎ ১৭৯৮ সালের ১৯ জানুয়ারি ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ার শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক, গণিতবিদ ও সমাজচিন্তাবিদ। তিনি সর্বপ্রথম সমাজের সামগ্রিক ও সুশৃঙ্খল অধ্যয়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। শুরুতে তিনি এই নতুন বিজ্ঞানের নাম দিয়েছিলেন 'সামাজিক পদার্থবিদ্যা' (Social Physics), কিন্তু পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Cours de Philosophie Positive' (The Positive Philosophy)-এর চতুর্থ খণ্ডে তিনি সর্বপ্রথম 'Sociology' শব্দটি প্রবর্তন করেন।
অগাস্ট কোঁৎ প্রত্যক্ষবাদ বা দৃষ্টবাদের (Positivism) প্রবক্তা ছিলেন। তিনি বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও তুলনামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে সমাজ অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক স্থিতিশীলতা (Social Statics) ও সামাজিক গতিশীলতা (Social Dynamics) সংক্রান্ত তাঁর বিভাজন সমাজবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁৎ মানবজ্ঞান ও সমাজ বিবর্তনের ধারায় যে তিনটি স্তরের কথা উল্লেখ করেছেন, তা সমাজবিজ্ঞানে 'ত্রয়স্তরের সূত্র' (Law of Three Stages) নামে পরিচিত। স্তর তিনটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধর্মতাত্ত্বিক স্তর (The Theological Stage): এটি মানবচিন্তা ও সমাজ বিকাশের প্রথম ও আদিম স্তর। চতুর্দশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত এ স্তরের স্থায়িত্ব ধরা হয়। এই স্তরে মানুষ সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনাকে কোনো অলৌকিক শক্তি, ভূত-প্রেত বা ঈশ্বরের ইচ্ছা দ্বারা পরিচালিত বলে বিশ্বাস করত। কোঁতের মতে, এ স্তরটি আবার তিনটি উপস্তরে বিভক্ত ছিল—জড়োপাসনা (Fetishism), বহু-ঈশ্বরবাদ (Polytheism) এবং এক-ঈশ্বরবাদ (Monotheism)।
২. অধিবিদ্যাগত স্তর (The Metaphysical Stage): এটি ধর্মতাত্ত্বিক ও দৃষ্টবাদী স্তরের মধ্যবর্তী একটি অবস্থান্তর স্তর (চতুর্দশ থেকে আঠারো শতক পর্যন্ত)। এ স্তরে অতিপ্রাকৃতিক দেবতার ধারণার পরিবর্তে বিমূর্ত শক্তি, প্রকৃতি বা অদৃশ্য সত্তা দ্বারা কার্যকারণ ব্যাখ্যা করা হতো। এতে যুক্তির সূচনা হলেও তা অভিজ্ঞতামূলক বা বৈজ্ঞানিক ছিল না।
৩. দৃষ্টবাদী বা প্রত্যক্ষবাদী স্তর (The Positive or Scientific Stage): এটি মানবচিন্তার সর্বোচ্চ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক স্তর (উনবিংশ শতাব্দী থেকে শুরু)। এই স্তরে মানুষ কাল্পনিক বিশ্বাস বা বিমূর্ত ধারণার পরিবর্তে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও কার্যকর যুক্তির মাধ্যমে জাগতিক সত্য উদ্ঘাটন করতে শেখে। এখানে বিজ্ঞানের সাহায্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়।
কোঁতের মতে, মানব মন ও চিন্তার এই ক্রমান্বয়িক উত্তরণের ফলেই সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই সমাজবিজ্ঞানের মতো আধুনিক বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও