‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ। জনাব 'ক'-কে তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিযুক্ত হওয়ার পর জনাব 'ক' ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচালনা পরিষদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখার জন্য কতগুলো দৃঢ় ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেন। প্রথমেই তিনি অর্থনৈতিক। সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির সাবলম্বিতা অর্জনে সক্ষম হন। কিন্তু জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড পরিচালনা পরিষদের। মনঃপূত না হওয়ার কারণে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে।

  1. ক)

    সিরাজ-উদ-দৌলা কত সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড কী? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর সাথে বাংলার কোন নবাবের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নবাবের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের প্রেক্ষিতে সংঘটিত যুদ্ধের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড হলো ইংরেজ সেনাপতি হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি কল্পিত ও অতিরঞ্জিত মর্মান্তিক ঘটনা। হলওয়েল দাবি করেন যে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি প্রস্থের একটি ক্ষুদ্র কামরায় বন্দি করে রাখেন। তীব্র গরমে ও শ্বাসকষ্টে তাদের মধ্যে ১২৩ জন মারা যায়। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের গবেষণায় এটি মিথ্যা ও নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।

    মীর জাফরকে ক্ষমতাচ্যুত করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালে মীর কাশিমকে বাংলার নবাব বানায়। তবে মীর কাশিম ইংরেজদের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে চাননি। তিনি নবাবের পদমর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়ার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন, সেনাবাহিনী আধুনিকীকরণ করেন এবং রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের চেষ্টা করেন। উদ্দীপকের জনাব 'ক' যেমন পরিচালনা পরিষদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে স্বাধীন পদক্ষেপ নেন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার করে প্রতিষ্ঠানের স্বাবলম্বিতা অর্জন করেন, তেমনি নবাব মীর কাশিমও কোম্পানিকে এড়িয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা দেখাতে চেয়েছিলেন। তাই জনাব 'ক'-এর মাঝে নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত নবাব অর্থাৎ মীর কাশিমের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের প্রেক্ষিতে সংঘটিত যুদ্ধটি হলো ঐতিহাসিক 'বক্সারের যুদ্ধ' (১৭৬৪ সাল)। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এই যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী।

    মীর কাশিম কর্তৃক দেশীয় বণিকদের করমুক্ত সুবিধা প্রদান, রাজধানী মুঙ্গেরে স্থানান্তর এবং সামরিক শক্তি পুনর্গঠন ইংরেজদের ক্ষুব্ধ করে। ফলে কোম্পানির সাথে তাঁর সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে মীর কাশিম অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে যৌথ বাহিনী গঠন করেন। ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বক্সারের প্রান্তরে কোম্পানির বাহিনীর সাথে এই যৌথ বাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যৌথ বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

    বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব পলাশীর যুদ্ধের চেয়েও বেশি ছিল। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পতন হয়েছিল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এবং কোম্পানির প্রভাব মূলত বাংলায় সীমিত ছিল। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে একসঙ্গে বাংলা, অযোধ্যা ও দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত শক্তি পরাজিত হওয়ায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব সর্বভারতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ মোগল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার 'দেওয়ানি' লাভ করেন। ফলে কোম্পানি বাংলায় রাজস্ব আদায়ের বৈধ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং পরবর্তীতে পুরো ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন কায়েমের পথ চিরতরে উন্মুক্ত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন