ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রকিব 'ঘুড়ি' নামক সোপ ফ্যক্টরির স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি কর্মীদেরকে পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা দিয়ে থাকেন। তবে কোনো প্রকার কাজে গাফিলতি হলেই তাকে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। ফলে কর্মীরা সব সময় ভয়ে তটস্থ থাকে কখন তাদের চাকরি হারাতে হয়। এমনকি পরিবারের কোনো আনন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে কর্মীদেরকে ছুটি মঞ্জুর করেন না। প্রতিষ্ঠনের সকল কর্মীই চায় এ অবস্থার অবসান হোক। অপরদিকে ইদানীং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় জনাব রকিব চিন্তিত।
- ক)(1)
X ও Y তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
- খ)(2)
প্রেষণাকে অবিরাম প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?
- গ)(3)
'ঘুড়ি' সোপ ফ্যাক্টরির কর্মীরা মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের কোন স্তরে অবস্থান করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ফ্যাক্টরিটির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিতকরণে জনাব রকিবের করণীয় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তত্ত্ব X ও তত্ত্ব Y (X ও Y তত্ত্ব)-এর প্রবক্তা হলেন ডগলাস ম্যাকগ্রেগর (Douglas McGregor)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রেষণা একটি নিরবচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক বিষয় হওয়ায় একে অবিরাম প্রক্রিয়া বলা হয়।
মানুষের অভাব ও চাহিদার কোনো শেষ নেই; একটি চাহিদা পূরণ হলে নতুন আরেকটি চাহিদা সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মীদের সারাক্ষণ কর্মোদ্দীপক রাখা জরুরি। তাই কর্মীদের কর্মস্পৃহা বজায় রাখতে ব্যবস্থাপককে প্রতিনিয়ত ও পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন প্রেষণামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। ফলে এটি কখনো থেমে থাকে না, ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ঘুড়ি' সোপ ফ্যাক্টরির কর্মীরা মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ 'নিরাপত্তার চাহিদা' স্তরে অবস্থান করছে।
আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের প্রথম স্তর হলো জৈবিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও মৌলিক বেতন ইত্যাদি) এবং দ্বিতীয় স্তর হলো নিরাপত্তার চাহিদা (চাকরির স্থায়িত্ব, শারীরিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি)। জৈবিক চাহিদা মেটার পরই মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব বা চাকরি রক্ষার তাগিদ অনুভূত হয়।
উদ্দীপকে জনাব রকিব কর্মীদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা দিয়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ করলেও সামান্য ভুলেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। এতে কর্মীরা চাকরি হারানোর চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ে তটস্থ থাকে। অর্থাৎ তাদের চাকরির কোনো স্থায়িত্ব বা নিরাপত্তা নেই। সুতরাং, তারা মাসলোর চাহিদা সোপানের 'নিরাপত্তার চাহিদা'র স্তরে অবস্থান করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফ্যাক্টরিটির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিতকরণে জনাব রকিবের ভয়ভীতি পরিহার করে কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা বিধান এবং ইতিবাচক প্রেষণামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত।
মাসলোর প্রেষণা তত্ত্ব অনুযায়ী, কর্মীদের উচ্চতর স্তরের প্রেষণা ও কর্মদক্ষতা অর্জনের জন্য নিম্নস্তরের চাহিদা পূরণ হওয়া আবশ্যক। চাকরির ভয় ও মানসিক উদ্বেগে থাকলে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে মনোযোগ দিতে পারে না, যা উৎপাদনশীলতাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রকিব সাহেবের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুতির ভয় এবং পারিবারিক ও মানবিক ছুটির অনুপস্থিতির কারণে কর্মীরা সর্বদা আতঙ্কে থাকে। এই মানসিক অস্থিরতা ও অতৃপ্তির ফলেই কারখানায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জনাব রকিবের করণীয় হলো:
১. কাজের সামান্য ত্রুটিতে বরখাস্ত করার মতো কঠোর ও স্বেচ্ছাচারী নীতি পরিহার করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া;
২. কর্মীদের চাকরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
৩. কর্মীদের প্রয়োজনীয় ছুটি ও মানবিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে মানসিক সন্তুষ্টি তৈরি করা; এবং
৪. ভীতির পরিবেশ দূর করে সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা।এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কর্মীরা আশ্বস্ত হয়ে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করবে এবং ফ্যাক্টরিটির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও