‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের ব্যক্তিগত দুর্বলতা তার সংকট সৃষ্টির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাবরের মৃত্যুর পর সাম্রালো যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল তাতে একজন কঠোর ও শক্তিশালী শাসকের প্রয়োজন বিশেষভাবে অনুভূত হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হুমায়ুনের মধ্যে নানা ধরনের সদগুণের সমাবেশ ঘটলেও সময়ের সবি অনুযায়ী কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার প্রচণ্ড অভাব ছিল। দয়াপ্রবণ চরিত্রের কারণে তিনি দন্ডযোগ্য অপরাধীকেও ক্ষমা করে দিতেন। এর ফলে হুমায়ুন। বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যেগুলো তার ভাগ্য বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।

  1. ক)

    পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ভারতের কোন বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    সম্রাট ফররুখ শিয়ারের ফরমান ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হুমায়ুনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার সাথে বাংলার নবাবি শাসনামলের কার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নবাবের ভাগ্য বিপর্যয়ের ফলাফল সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ভারতের কালিকট (বর্তমান কোঝিকোড়) বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭১৭ সালে মুঘল সম্রাট ফররুখ শিয়ার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মাত্র ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য এবং নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের অধিকার দিয়ে ফরমান জারি করেন। এই ফরমানের ফলে ইংরেজরা বাংলায় অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করার পাশাপাশি দেশীয় বণিকদের কোণঠাসা করে ফেলে। পরবর্তীকালে ইংরেজদের এ বাণিজ্যিক সুযোগ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল, যা সামগ্রিকভাবে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌত্ব বিপন্ন করার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে হুমায়ুনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং অতিরিক্ত দয়াশীলতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তার সাথে বাংলার নবাবি আমলের শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্রাট হুমায়ুন অনেক গুণের অধিকারী হলেও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষমা করে দেন এবং একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নেন, যা তার পতনকে ত্বরান্বিত করে।

    বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও অনুরূপ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই তিনি চরম পারিবারিক ও রাজদরবারের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন। ঘসেটি বেগম, শওকত জং এবং প্রধান সেনাপতি মীর জাফর বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করা সত্ত্বেও নবাব তাদের কঠোর শাস্তি না দিয়ে বারবার ক্ষমা করেন। এমনকি পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে মীর জাফরের শপথকে বিশ্বাস করে তিনি চরম রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার পরিচয় দেন। পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফরের নিষ্ক্রিয়তা ও ষড়যন্ত্র নবাব বুঝতে পেরেও তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন। ফলে হুমায়ুনের মতো সিরাজউদ্দৌলার এই চারিত্রিক কোমলতা ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতাই তার ভাগ্য বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার ভাগ্য বিপর্যয়ের ফলাফল ছিল সমগ্র ভারতবর্ষ তথা বাংলার ইতিহাসের জন্য সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিম্নে এর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাংলার স্বাধীনতার অবসান: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
    ২. ইংরেজদের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা: নবাবের পতনের পর ইংরেজরা মীর জাফর ও পরে মীর কাশিমকে পুতুল নবাব হিসেবে সিংহাসনে বসিয়ে প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে কার্যত শাসকে পরিণত হয়।
    ৩. অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সম্পদ পাচার: সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর বাংলায় শুরু হয় বেপরোয়া লুটতরাজ ও অর্থনৈতিক শোষণ। দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে তাঁতশিল্প ধ্বংস হয়ে যায়। সম্পদ পাচারের ফলেই ১৭৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' দেখা দেয়, যাতে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে।
    ৪. দীর্ঘমেয়াদি ঔপনিবেশিক শাসন: সিরাজের পতন কেবল বাংলার নয়, সমগ্র ভারতবর্ষকে প্রায় দুশো বছরের ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

    অতএব, সিরাজউদ্দৌলার ভাগ্য বিপর্যয় কেবল একজন শাসকের পতন ছিল না, বরং এটি ছিল সমগ্র ভারতবর্ষের স্বাধীনতা হরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী শোষণের এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন