সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ‘Culture is what we are’ - সংজ্ঞাটি কার ?

    (1)
  2. খ)

    ‘প্রকৃতি পূজা’ বলতে কী বোঝ ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তত্ত্বটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর কোন তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত তত্ত্বের প্রভাবেই ব্যক্তি, বস্তু এবং সমাজের উৎপত্তি, বিকাশ পরিবর্তন ঘটে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘Culture is what we are’—সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট এম. ম্যাকাইভার (R. M. MacIver)-এর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান ও শক্তিকে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী মনে করে সেগুলোর প্রতি ভক্তি ও আরাধনা প্রদর্শন করাই হলো ‘প্রকৃতি পূজা’ (Naturism)।

    আদিম সমাজে মানুষ যখন ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত, সূর্য, নদী, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদির রহস্য ও শক্তির ব্যাখ্যা দিতে পারত না, তখন ভয় ও শ্রদ্ধার কারণে সেগুলোর আরাধনা শুরু করে। আদিম মানুষের বিশ্বাস ছিল যে প্রাকৃতিক এসব শক্তির সন্তুষ্টি ও কৃপার ওপর মানুষের জীবন ও কল্যাণ নির্ভরশীল। এভাবে প্রকৃতির বিভিন্ন দৃশ্যমান শক্তি ও উপাদানের পূজাকে ম্যাক্স মুলার ধর্মোৎপত্তির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তত্ত্বটি সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কস (Karl Marx)-এর ‘দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ’ (Dialectical Materialism) তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত (যার মূল ভিত্তি দার্শনিক হেগেলের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি বা Dialectics)।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, সমাজের বিকাশ ঘটছে তিনটি স্তর বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে—পুরানো অবস্থা (Thesis বা বাদ), এর বিপরীত অবস্থা (Antithesis বা প্রতিবাদ) এবং এ দুয়ের সংঘাতের ফলে উদ্ভূত নতুন অবস্থা (Synthesis বা সংবাদ)। পরবর্তীতে এই নতুন অবস্থাটি আবার থিসিস হিসেবে কাজ করে এবং একইভাবে নতুন রূপ লাভ করে।

    জার্মান দার্শনিক হেগেলের দ্বান্দ্বিক ধারণা (Thesis-Antithesis-Synthesis) গ্রহণ করে কার্ল মার্কস তাঁর বস্তুবাদী দর্শনের মাধ্যমে ‘দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ’ তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠা করেন। মার্কসের মতে, সমাজের মূল চালিকাশক্তি হলো বস্তুগত বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সমাজের ভেতরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিরোধের ফলেই সমাজ এক পর্যায় থেকে অন্য নতুন পর্যায়ে বিকশিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি কার্ল মার্কসের দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বের প্রভাবেই ব্যক্তি, বস্তু এবং সমাজের উৎপত্তি, বিকাশ ও পরিবর্তন ঘটে—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ অনুসারে, মহাবিশ্বের কোনো কিছুই স্থির নয়; ব্যক্তি, সমাজ ও বস্তু সবকিছুই সর্বদা পরিবর্তনশীল ও গতিশীল। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা বিপরীতমুখী শক্তির সংঘাত। মার্কস দেখিয়েছেন যে প্রতিটি বস্তুর ভেতরে দুটি বিপরীত শক্তির অস্তিত্ব থাকে। একটি হলো বিদ্যমান অবস্থা বা বাদ (Thesis), আর অন্যটি হলো তার মধ্যকার বিপরীত অবস্থা বা প্রতিবাদ (Antithesis)। এই দুই বিপরীত শক্তির মধ্যকার সংঘাতের ফলেই তৃতীয় একটি উন্নত অবস্থার সৃষ্টি হয়, যাকে সংবাদ বা সিন্থেসিস (Synthesis) বলা হয়। এই সিন্থেসিস আবার একটি নতুন থিসিসে পরিণত হয় এবং এভাবে অবিরাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বস্তু বা ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে।

    মানব সমাজের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দ্বন্দ্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাজের বিকাশ ঘটেছে। আদিম সাম্যবাদী সমাজের ভেতর থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্বের ফলে দাস সমাজের জন্ম হয়। দাস সমাজের অভ্যন্তরীণ শোষক (প্রভু) ও শোষিত (দাস) শ্রেণির দ্বন্দ্ব থেকে জন্ম নেয় সামন্ত সমাজ। একইভাবে সামন্ত সমাজের সামন্তপ্রভু ও ভূমিতাসের দ্বন্দ্বের ফলে সৃষ্টি হয় পুঁজিবাদী সমাজের। পুঁজিবাদী সমাজে বুর্জোয়া ও সর্বহারা শ্রেণির তীব্র দ্বন্দ্বের ফলে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে সর্বহারা শ্রেণির সমাজ গঠিত হয়।

    ব্যক্তির চিন্তা, চেতনা এবং চেতনার বস্তুগত রূপও এই দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিশীলিত ও পরিবর্তিত হয়। সুতরাং, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং তার সমন্বয়ের মাধ্যমেই যে বস্তু, ব্যক্তি ও সমাজের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও রূপান্তর সংঘটিত হয়, তা দ্বান্দ্বিক তত্ত্বের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন