‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘ চলমান ক ও খ রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে এই প্রতিষ্ঠান সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস করেছে।

  1. ক)

    সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড কবিতার রচয়িতা কে?

    (1)
  2. খ)

    ১৪ ডিসেম্বর স্মরণীয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা একই রকম ছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত ভূমিকার বাস্তবতা বিশ্লেষণ করা।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' কবিতার রচয়িতা মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ (Allen Ginsberg)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। সদ্য স্বাধীন হতে যাওয়া জাতিকে মেধাহীন ও পঙ্গু করার এই নৃশংস চক্রান্তের শিকার বীর শহীদদের স্মরণে ১৪ই ডিসেম্বর দিনটি প্রতি বছর 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' হিসেবে বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মতো বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও জাতিসংঘ যুদ্ধ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, যা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অনুরূপ ছিল।
    উদ্দীপকে দেখা যায়, দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসসহ শান্তি স্থাপনের অব্যাহত উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও জাতিসংঘে বিশ্বশান্তি বজায় রাখা এবং যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
    ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারত-পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ওঠে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং উভয় পক্ষের সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষে নেওয়া সেই প্রস্তাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কোনো স্বীকৃতি ছিল না। নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোর কারণে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে গেলে পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদেও অনুরূপ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল। এভাবে উদ্দীপকের মতো যুদ্ধ বন্ধ ও সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসের ভূমিকার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শান্তি প্রতিষ্ঠার সার্বিক দায়িত্ব থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বে এটি কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
    মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধরে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন চালায়। জাতিসংঘের মতো বিশ্বসংস্থার মূল লক্ষ্য ছিল আক্রান্ত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে গণহত্যা বন্ধ করা। কিন্তু পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধের কারণে জাতিসংঘ সক্রিয়ভাবে গণহত্যা বন্ধে কার্যকর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রেখে পাকিস্তানের অখণ্ডতা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। অন্যদিকে, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোতে বাংলাদেশের স্বাধিকার বা গণহত্যার কোনো সমাধান ছিল না। যার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে তিনবার ‘ভেটো’ প্রয়োগ করে তা বাতিল করে দেয়।
    পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলেও তা বাধ্যতামূলক না হওয়ায় যুদ্ধের বাস্তবতায় প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে জাতিসংঘ শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলায় এবং সীমান্ত অঞ্চলে খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তার মতো মানবিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।
    পরিশেষে বলা যায়, মানবিক সহায়তা প্রদান করতে পারলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মেরুকরণ ও বৃহৎ শক্তিগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে জাতিসংঘ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যৌক্তিক ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে রাজনৈতিকভাবে সফল ভূমিকা রাখতে পারেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন