ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা-নরসিংদী মহাসড়কের বড় বড় গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছিল। ভারী কিছু লোহার পিলারও ফেলে রাখা হয়েছিল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে সাময়িক কষ্ট হলেও অপশক্তির সরাসরি হামলা হতে একটি বৃহত্তর জনপদকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময়ে একদল লোক স্বাধীনতার বিরোধিতা করে মূল জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। এরা রাজাকার নামে পরিচিত।
- ক)(1)
বদরের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
- খ)(2)
উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের বিপর্যয়ের মূল কারণ কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে মহানবি (সা.)-এর সময়ে সংঘটিত খন্দকের যুদ্ধের কী সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মহানবি (সা.)-এর সাথে ভিন্নমত পোষণকারী দলের কর্মকাণ্ড উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বদরের যুদ্ধ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে (১৭ই রমজান, ২ হিজরি) সংঘটিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল মহানবি (সা.)-এর রণকৌশলগত নির্দেশ অমান্য করা এবং পার্থিব সম্পদ বা গনিমতের মালের প্রতি মোহ তৈরি হওয়া।
যুদ্ধের শুরুতে মহানবি (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজকে জাবালে রুমাত নামক গিরিপথে মোতায়েন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ফলাফল যাই হোক না কেন তারা যেন স্থান ত্যাগ না করেন। কিন্তু প্রাথমিক বিজয়ের পর শত্রুদের রেখে যাওয়া গনিমতের মাল সংগ্রহের লোভে অধিকাংশ তীরন্দাজ স্থান ত্যাগ করেন। এই সুযোগে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে কুরাইশ অশ্বারোহী বাহিনী পেছন দিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে মুসলিম বাহিনীকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ঢাকা-নরসিংদী মহাসড়কে গাছ ও লোহার পিলার ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনার সাথে মহানবি (সা.)-এর সময়ে সংঘটিত খন্দকের যুদ্ধের আত্মরক্ষামূলক কৌশল বা পরিখা খননের সাদৃশ্য রয়েছে।
৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে কুরাইশ ও তাদের মিত্রবাহিনী মদিনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে বিপুল সৈন্য নিয়ে সমবেত হলে মদিনার প্রতিরক্ষার স্বার্থে হযরত সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে শহরের অরক্ষিত অংশে গভীর পরিখা (খন্দক) খনন করা হয়। এই পরিখা শত্রুবাহিনীর সরাসরি অগ্রগতি প্রতিহত করে এবং মদিনাকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হানাদার বা অপশক্তির হাত থেকে বৃহত্তর জনপদকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে রাস্তায় গাছ কেটে ও ভারী লোহার পিলার ফেলে প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষার কৌশল হিসেবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে শত্রুর সরাসরি হামলা ঠেকানোর এই দিকটিতে খন্দকের যুদ্ধের পরিখা খনন কৌশলের সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মহানবি (সা.)-এর সাথে ভিন্নমত পোষণকারী দল অর্থাৎ মুনাফিক এবং মদিনা সনদের শর্ত ভঙ্গকারী বিশ্বাসঘাতক গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড স্বাধীনতা যুদ্ধের রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতার অনুরূপ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা অর্জনে আত্মত্যাগ করছিল, তখন রাজাকাররা স্বাধীনতার বিরোধিতা করে নিজ জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে দখলদার বাহিনীর সাথে হাত মেলায় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
ইসলামের ইতিহাসে মহানবি (সা.)-এর মদিনা জীবনেও এমন একটি দল সক্রিয় ছিল, যাদের 'মুনাফিক' বলা হয়। এদের নেতা ছিল আবদুল্লাহ ইবনে উবাই। তারা বাহ্যিকভাবে ইসলামের অনুসারী দাবি করলেও গোপনে কুরাইশ ও ইহুদিদের সাথে আঁতাত করে মুসলমানদের ক্ষতি করার চেষ্টা করত। উহুদের যুদ্ধে এই মুনাফিকরা মাঝপথ থেকে তিনশত সৈন্য নিয়ে দলত্যাগ করে মুসলমানদের বিপদে ফেলেছিল। এছাড়া খন্দকের যুদ্ধে ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজা মহানবি (সা.)-এর সাথে সম্পাদিত মদিনা সনদ অমান্য করে এবং শত্রু জোটের সাথে গোপনে যোগসাজশ করে মদিনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়।
সুতরাং, নিজ সমাজের মধ্যে অবস্থান করে জাতীয় স্বার্থ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গোপনে বা প্রকাশ্যে শত্রুর সহায়তা করার যে হীন মানসিকতা রাজাকারদের মাঝে ছিল, তা মহানবি (সা.)-এর যুগে মুনাফিক ও চুক্তিভঙ্গকারী বিশ্বাসঘাতক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের সাথেই সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও