কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্র লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    হ্যাচারি কী?

    (1)
  2. খ)

    চিংড়ি চাষ কেন লাভজনক? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রে প্রদর্শিত প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র ক ও চিত্র খ এর প্রক্রিয়াগত পদ্ধতির মধ্যে কোনটি বেশি সহজলভ্য। উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে কৃত্রিম বা নিয়ন্ত্রিত স্থানে মাছের ব্রুড পালন, কৃত্রিম প্রজনন এবং ডিম ফুটিয়ে পোনা উৎপাদন ও প্রাথমিক পরিচর্যা করা হয়, তাকে হ্যাচারি বা মৎস্য প্রজননাগার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিংড়ি চাষ অত্যন্ত লাভজনক, কারণ দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা এবং উচ্চ বাজারমূল্য রয়েছে।

    চিংড়ি দ্রুত বর্ধনশীল এবং আমাদের দেশের আবহাওয়া ও উপকূলীয় জলজ পরিবেশ চিংড়ি চাষের বিশেষ উপযোগী। বিদেশে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়, যার কারণে চিংড়িকে 'সাদা সোনা' বলা হয়। কম খরচে ও তুলনামূলক কম সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হওয়ায় চিংড়ি চাষ অত্যন্ত লাভজনক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রে মাছকে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ বা শুঁটকি তৈরির সনাতন পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়েছে। নিচে এ প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:

    ১. মাছ সংগ্রহ ও বাছাই: শুঁটকি তৈরির জন্য প্রথমে তাজা ও সুস্থ মাছ সংগ্রহ করা হয় এবং পচা বা নষ্ট মাছ আলাদা করা হয়।
    ২. আঁশ ছাড়ানো ও ড্রেসিং: মাছের আঁশ, নাড়িভুঁড়ি, ফুলকা ও মাথা (প্রয়োজনে) অপসারণ করে ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করা হয়।
    ৩. ধৌতকরণ: পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে মাছগুলো খুব ভালোভাবে ধুয়ে রক্ত ও ময়লা দূর করা হয়।
    ৪. ঝুলিয়ে শুকানো: এরপর চিত্র 'ক'-এর মতো বাঁশের মাচা বা দড়িতে মাছগুলোকে সমদূরত্বে ঝুলিয়ে অথবা পরিষ্কার চাটাইয়ে ছড়িয়ে কড়া রোদে টানা ৪-৬ দিন শুকানো হয়, যতক্ষণ না মাছের আর্দ্রতা ১৫-২০% এর নিচে নেমে শক্ত হয়।
    ৫. সংরক্ষণ: সঠিকভাবে শুকানোর পর শুঁটকিগুলো বায়ুরোধী পাত্র বা পলিথিনে ভরে শীতল ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'ক' নির্দেশ করে মাছ শুকানো (শুঁটকি তৈরি) এবং চিত্র 'খ' নির্দেশ করে মাছ লবণজাতকরণ (লবণ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ)। এই দুই পদ্ধতির মধ্যে চিত্র 'ক' অর্থাৎ মাছ শুকানো পদ্ধতিটি বেশি সহজলভ্য।

    নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. উপকরণের সহজলভ্যতা: মাছ শুকানোর জন্য মূলত সূর্যালোক ও বাতাসের প্রয়োজন হয়, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বিনামূল্যে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, লবণজাতকরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিষ্কার খাবার লবণের প্রয়োজন হয়, যা অতিরিক্ত ব্যয়ের সৃষ্টি করে।

    ২. খরচ ও ব্যয়সাশ্রয়ী: শুঁটকি তৈরিতে বাঁশের ফ্রেম, দড়ি বা চাটাই ছাড়া বাড়তি কোনো খরচ নেই বললেই চলে। কিন্তু লবণজাতকরণ পদ্ধতিতে প্রচুর লবণ এবং পাত্রের প্রয়োজন হয়, ফলে এটি তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল।

    ৩. প্রযুক্তিগত সুবিধা ও সহজ প্রয়োগ: রোদে শুকানোর পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও গ্রামীণ পর্যায়ে যে কেউ কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই সম্পাদন করতে পারে।

    ৪. দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা: শুঁটকি মাছের ওজন অনেক কমে যায় এবং এটি দীর্ঘ সময় কোনো বিশেষ রাসায়নিক বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা ছাড়াই সহজে পরিবহন ও সংরক্ষণ করা যায়।

    অতএব, উপকরণ, সার্বিক ব্যয় ও পরিচালনার সহজতার দিক বিবেচনা করলে চিত্র 'ক'-এর রোদে মাছ শুকানোর পদ্ধতিটি চিত্র 'খ'-এর লবণজাতকরণ পদ্ধতির চেয়ে বেশি সহজলভ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন