কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
আবুল কালাম পাঁচ বছর পূর্বে তিনটি গরু নিয়ে ক্ষুদ্র খামার। শুরু করেন। ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে তার খামারে গরুর সংখ্যা প্রায় পাঁচশত। কিছুদিন পূর্বে তার খামারের দশটি গরুর মুখে, জিহ্বায় ও ক্ষুরে ঘা হয়। পশু খুঁড়িয়ে হাঁটে ও শক্ত কিছু খেতে পারে না। আবুল কালাম পশুসম্পদ কর্মকর্তার নিকট গেলে তিনি তাকে সঠিক পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
শালদুধ কী?
- খ)(2)
গরুর আবাসস্থল বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত গরুগুলো যে রোগে আক্রান্ত তার কারণ ও লক্ষণগুলো বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
পশুসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালামকে রোগ প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বললেন উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাছুর প্রসবের পর গাভীর ওলান থেকে প্রথম যে হলুদ রঙের ঘন ও আঠালো দুধ পাওয়া যায়, তাকে শালদুধ বা কোলস্ট্রাম (Colostrum) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গরুর সুস্থতা, শারীরিক বৃদ্ধি, দুধ ও মাংসের সর্বোচ্চ উৎপাদন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত নির্দিষ্ট ছাউনিযুক্ত বা সুরক্ষিত বাসস্থানকে গরুর আবাসস্থল বলে। উপযুক্ত আবাসস্থল গরুকে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আবুল কালামের গরুগুলো ক্ষুরারোগ বা ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (FMD)-এ আক্রান্ত হয়েছে।
কারণ: ক্ষুরারোগ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি পিকরনাভাইরাস (Picornavirus) গোত্রের আফথোভাইরাস (Aphthovirus)-এর সংক্রমণের মাধ্যমে ঘটে থাকে। দূষিত খাদ্য, পানি, বাতাস এবং সরাসরি আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত খামারে ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণসমূহ:
১. গরুর মুখে, জিহ্বায়, মাড়িতে এবং ক্ষুরের খাঁজে ছোট ছোট ফোস্কা দেখা দেয় যা ফেটে গিয়ে লাল ঘায়ের সৃষ্টি করে।
২. মুখে ঘা হওয়ার ফলে লালা ঝরে এবং পশু শক্ত খাবার খেতে পারে না।
৩. ক্ষুরে ঘা হওয়ার কারণে পশু ব্যথায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে।
৪. আক্রান্ত পশুর শরীরে তীব্র জ্বর আসে এবং দুধ উৎপাদন দ্রুত কমে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পশুসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালামকে ক্ষুরারোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন, তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ক্ষুরারোগ ভাইরাসজনিত হওয়ায় রোগটির ক্ষেত্রে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনাই প্রধান।
কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো নিম্নরূপ:
১. আক্রান্ত পশুকে পৃথকীকরণ: আক্রান্ত গরুগুলোকে সুস্থ গরু থেকে অবিলম্বে আলাদা স্থানে সরিয়ে রাখতে হবে, যাতে খামারের বাকি গরুগুলোতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
২. জীবাণুনাশক ব্যবহার: পশুর ক্ষতস্থান জীবাণুনাশক যেমন পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, ফিটকিরি বা বোরাক্স মিশ্রিত হালকা গরম পানি দিয়ে নিয়মিত ধুয়ে দিতে হবে।
৩. খামার জীবাণুমুক্তকরণ: গোয়ালঘর ও চারপাশের পরিবেশ চুন, ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক স্প্রে করে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। খামারের প্রবেশমুখে জীবাণুনাশক ফুটবাথ রাখতে হবে।
৪. নরম খাদ্য সরবরাহ: যেহেতু মুখের ক্ষতের কারণে গরু শক্ত খাবার খেতে পারে না, তাই নরম ভাতের মাড়, পাতলা জাউ, চিটাগুড় মেশানো নরম খাবার দিতে হবে।
৫. নিয়মিত টিকাদান: খামারের সকল সুস্থ পশুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর ক্ষুরারোগের প্রতিষেধক টিকা (FMD Vaccine) দিতে হবে।সুতরাং, উল্লিখিত জৈবনিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই আবুল কালামের খামারে ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও