মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ড. রিয়াজ তাঁর পরীক্ষণে চলের নিয়ন্ত্রণ করাসহ বস্তুনিষ্ঠতার নীতি অনুসরণ করেন।দৃশ্যকল্প-২:

  1. ক)

    প্রকল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    পরীক্ষণে 'পরীক্ষণ দল' গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ ড. রিয়াজের ব্যবহৃত পদ্ধতির অসুবিধাগুলো লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর B ও C অংশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ঘটনার কারণ বা সম্পর্কের বিষয়ে গবেষকের গৃহীত আপাত বা সাময়িক অনুমানকে প্রকল্প (Hypothesis) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরীক্ষণ পদ্ধতিতে অনির্ভরশীল চলের প্রভাব যাচাই করার জন্য যে দলের ওপর অনির্ভরশীল চলটি প্রয়োগ করা হয়, তাকে পরীক্ষণ দল (Experimental group) বলে।

    পরীক্ষণে অনির্ভরশীল চলের প্রকৃত প্রভাব বা ফলাফল নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে পরীক্ষণ দল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষণ দলের ওপর স্বাধীন চল প্রয়োগ করে প্রাপ্ত আচরণের পরিবর্তনকে যখন কোনো চল প্রয়োগ না করা 'নিয়ন্ত্রিত দল'-এর আচরণের সাথে তুলনা করা হয়, তখনই কেবল কারণ ও ফলাফলের সুস্পষ্ট সম্পর্ক নির্ণয় করা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ ড. রিয়াজের ব্যবহৃত পদ্ধতিটি হলো মনোবিজ্ঞানের 'পরীক্ষণ পদ্ধতি' (Experimental Method)। নিচে এই পদ্ধতির প্রধান অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

    ১. কৃত্রিম পরিবেশ: পরীক্ষণাগারের পরিবেশ প্রায়শই কৃত্রিম হয়ে থাকে, যা পাত্র বা প্রযোজ্যের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আচরণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
    ২. সব চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব: মানুষের মন ও আচরণ অত্যন্ত জটিল। তাই পরীক্ষণ চলাকালে সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মধ্যবর্তী বা অনাকাঙ্ক্ষিত চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন।
    ৩. নৈতিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা: কিছু মানবিক আবেগ ও জটিল আচরণ (যেমন—তীব্র ভয়, ক্রোধ, অপরাধপ্রবণতা ইত্যাদি) নৈতিক কারণে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি বা পরীক্ষণ করা যায় না।
    ৪. ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ: বিশেষ যন্ত্রপাতি, উপযুক্ত পরিবেশ এবং সুদক্ষ গবেষকের প্রয়োজন হওয়ায় এটি বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২-এর ছকে মনোবিজ্ঞানে ব্যবহৃত প্রধান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিসমূহ দেখানো হয়েছে। ছকে প্রথমটি 'পরীক্ষণ পদ্ধতি', সুতরাং B ও C অংশ দুটি মনোবিজ্ঞানের অপর দুটি প্রধান পদ্ধতিকে নির্দেশ করে, যা মূলত 'পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি' (Observational Method) ও 'জরিপ পদ্ধতি' (Survey Method) [অথবা ব্যক্তি-ইতিহাস পদ্ধতি]।

    নিচে B (পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি) ও C (জরিপ পদ্ধতি)-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে গবেষক কোনো কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি না করে স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যক্তির আচরণ প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ ও লিপিবদ্ধ করেন। অন্যদিকে, জরিপ পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতামত, মনোভাব বা তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালা বা সাক্ষাৎকার ব্যবহৃত হয়।

    ২. তথ্যের প্রকৃতি ও সংগ্রহ প্রক্রিয়া: পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে আচরণ সরাসরি দৃশ্যমান থাকে এবং তা প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। জরিপ পদ্ধতিতে উত্তরদাতার আত্ম-প্রতিবেদনের (Self-report) ওপর ভিত্তি করে তথ্য সংগৃহীত হয়।

    ৩. নমুনার পরিধি: জরিপ পদ্ধতিতে খুব অল্প সময়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় বা বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। কিন্তু পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি সাধারণত অপেক্ষাকৃত ছোট দল বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রয়োগ করা হয়।

    ৪. সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা: পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে আচরণের স্বাভাবিকতা বজায় থাকে, তবে গবেষকের ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। অপরদিকে, জরিপ পদ্ধতিতে সহজে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হলেও উত্তরদাতার অসত্য বা পক্ষপাতদুষ্ট উত্তর দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    পরিশেষে, আচরণ অনুধাবনে স্বাভাবিকতা ও বাস্তবধর্মী পর্যবেক্ষণের জন্য B (পর্যবেক্ষণ) কার্যকর হলেও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি জানার ক্ষেত্রে C (জরিপ) পদ্ধতি অধিক ফলপ্রসূ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন