মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: জনাব সিরাজ আগামীতে নির্বাচন করতে চায়। তাই সে জনগণের সাথে মিশে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে।দৃশ্যকল্প-২:

- ক)(1)
ধর্মীয় মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
সামাজিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১-এর জনাব সিরাজের মূল্যবোধ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২-এ প্রদর্শিত মূল্যবোধের মাধ্যম দুটির তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধর্মীয় বিশ্বাস, অনুশাসন এবং আচার-অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা মূল্যবোধকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক মূল্যবোধ মানুষকে সমাজে শৃঙ্খলিত, পরোপকারী এবং পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করতে শেখায় বলে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব রীতিনীতি ও আদর্শের সমষ্টি, যা সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষ অনুসরণ করে। এটি ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করে এবং সমাজে শান্তি, ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে। ফলে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে এটি অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এর জনাব সিরাজের মধ্যে 'রাজনৈতিক মূল্যবোধ' পরিলক্ষিত হয়েছে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো এমন এক ধরনের মূল্যবোধ, যেখানে ক্ষমতা লাভ, নেতৃত্ব প্রদান, প্রভাব বিস্তার এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিনিধিত্ব করার আকাঙ্ক্ষা প্রধান হয়ে ওঠে। এ ধরনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী ব্যক্তিরা জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণে আগ্রহী হন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সিরাজ আগামীতে নির্বাচন করার লক্ষ্যে জনগণের সাথে মিশে এলাকার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করছেন। এখানে জনগণের সমর্থন অর্জন ও নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে নেতৃত্ব বা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির লক্ষ্য প্রকাশ পেয়েছে। স্প্র্যাঙ্গার (Spranger)-এর মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী এটি রাজনৈতিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ মূল্যবোধ গঠনের দুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম—'পরিবার' (প্রথম চিত্রে পরিবার) এবং 'বিদ্যালয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান' বা 'সমাজ/সঙ্গীদলের' তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মূল্যবোধ বিকাশের স্তর: শিশুর মূল্যবোধ গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি রচিত হয় পরিবারে। জন্মের পর পরিবার থেকেই শিশু স্নেহ, মায়া-মমতা, সত্যবাদিতা ও বড়দের শ্রদ্ধা করার মতো মৌলিক মূল্যবোধ শেখে। অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক পরিমণ্ডলে গিয়ে শিশু তার অর্জিত মূল্যবোধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং বৃহত্তর পরিসরে তা প্রয়োগ করতে শেখে।
২. প্রভাবের প্রকৃতি: পরিবারের প্রভাব মূলত অনানুষ্ঠানিক, আবেগনির্ভর ও গভীর। পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের অনুকরণ করে শিশু অজান্তেই আচরণগত নীতি শেখে। অপরদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সঙ্গীগোষ্ঠীর প্রভাব অপেক্ষাকৃত আনুষ্ঠানিক ও যুক্তিভিত্তিক, যেখানে নিয়মশৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি চর্চার মাধ্যমে মূল্যবোধ দৃঢ় হয়।
৩. পরিধি: পরিবারের পরিধি সীমিত এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সঙ্গীগোষ্ঠীর পরিধি বিস্তৃত। এটি শিশুকে বৃহত্তর সমাজের বৈচিত্র্যময় পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে সাহায্য করে।
সুতরাং, শিশুর মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরিতে পরিবার প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে এবং বিদ্যালয় বা সমাজ সেই ভিত্তিকে সুদৃঢ় ও পরিপূর্ণ করে তোলে। উভয় মাধ্যমই ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও