ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সাধুঘাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আল-আমীনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী জনাব আসলামকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি অনেক সমস্যা ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন। হন। এ সময় কিছু ভণ্ডপির ও ইউনিয়নের কর দিতে অস্বীকারকারীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু চেয়ারম্যান আসলাম সাহেব অসীম সাহস ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। বিশ্বস্ততার জন্য তাকে বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

  1. ক)

    হযরত ওমর, (রা) তার বিশাল সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে বিভন্ত করেন?

    (1)
  2. খ)

    মহানবি (স) কাকে এবং কেন সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত আসলাম সাহেবের সাথে তোমার, পাঠ্যপুস্তকের কোন খলিফার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত খলিফাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায় কি? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হযরত ওমর (রা) তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে ৮টি প্রদেশে বিভক্ত করেন (মতান্তরে প্রধান ৮টি প্রদেশ এবং মোট ১৪টি প্রশাসনিক অঞ্চল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি (স) হযরত আবু বকর (রা)-কে 'সিদ্দিক' উপাধি দিয়েছিলেন।

    'সিদ্দিক' শব্দের অর্থ পরম সত্যবাদী বা সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী। মহানবি (স)-এর ঐতিহাসিক মিরাজের ঘটনা যখন মক্কার কুরাইশরা অসম্ভব বলে উপহাস ও অবিশ্বাস করছিল, তখন হযরত আবু বকর (রা) কোনো প্রকার দ্বিধা বা প্রমাণ ছাড়াই নিঃশর্তভাবে রাসুলুল্লাহ (স)-এর মিরাজের সত্যতা দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস ও সত্যায়ন করেন। তাঁর এই অবিচল বিশ্বাসের জন্য মহানবি (স) তাঁকে 'সিদ্দিক' উপাধিতে ভূষিত করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আসলাম সাহেবের সাথে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মুসলমানদের চরম সংকটময় মুহূর্তে সাহাবিদের ঐকমত্যে হযরত আবু বকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হন। খলিফা নির্বাচিত হয়েই তিনি নানা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিদ্রোহ-বিপত্তির সম্মুখীন হন। তখন আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভণ্ড নবীদের আবির্ভাব ঘটে এবং অনেক গোত্র যাকাত দিতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ করে। হযরত আবু বকর (রা) অসীম সাহস, প্রজ্ঞা ও অটল দৃঢ়তার সাথে ভণ্ড নবীদের দমন করেন এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে রিদ্দার যুদ্ধ বা স্বধর্মত্যাগীদের সফলভাবে দমন করেন।

    উদ্দীপকের আসলাম সাহেবও চেয়ারম্যান আল-আমীনের মৃত্যুর পর নির্বাচিত হয়ে ভণ্ডপীর ও কর অস্বীকারকারীদের কঠোরভাবে দমন করেন এবং বিশ্বস্ততার মর্যাদা পান। তাই আসলাম সাহেবের কার্যক্রম ও নেতৃত্বের সাথে হযরত আবু বকর (রা)-এর কার্যক্রমের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, হযরত আবু বকর (রা)-কে নিঃসন্দেহে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' (Saviour of Islam) বলা যায়। নিম্নে এর সপক্ষে মতামত প্রদান করা হলো:

    ১. মহানবি (স)-এর ওফাতোত্তর সংকট নিরসন: মহানবি (স)-এর আকস্মিক ওফাতে গোটা মুসলিম উম্মাহ দিশেহারা ও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। হযরত আবু বকর (রা) তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সাহাবিদের মানসিক সান্ত্বনা দেন এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করেন।
    ২. ভণ্ড নবীদের দমন: মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর মুসায়লামা, তুলায়হা, আসওয়াদ আনসি ও সাজাহর মতো ভণ্ড নবীদের উত্থান ইসলামি আদর্শের মূল ভিত্তিকে ধ্বংস করার উপক্রম করেছিল। আবু বকর (রা) দৃঢ়তার সাথে তাদের নিশ্চিহ্ন করেন।
    ৩. যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানানো গোত্রগুলোর বিরুদ্ধে তিনি কোনো ছাড় না দিয়ে আপসহীন যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
    ৪. পবিত্র কুরআন সংকলন: ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফেজ সাহাবি শাহাদাত বরণ করলে তিনি সাহাবি যায়েদ বিন সাবিত (রা)-এর মাধ্যমে পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে সংরক্ষণের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেন।

    এসব মারাত্মক দুর্যোগের সময় তাঁর অনমনীয় ও দৃঢ় পদক্ষেপ না থাকলে সদ্যপ্রতিষ্ঠিত ইসলাম ধর্ম অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেত। তাই ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টিসহ সকল ইতিহাসবিদ তাঁকে যথার্থভাবেই 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' বলে অভিহিত করেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন