কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সাইলেজ কী?
- খ)(2)
"ছাগল গরিবের গাভি”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র ১ এর প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র ১ ও চিত্র ২ এর মধ্যে কোনটি পালন করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাঁচা ও রসালো ঘাসকে অবাত বা বাতাসহীন অবস্থায় গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট গর্তে বা পাত্রে সংরক্ষণ করে যে পুষ্টিকর খাদ্য তৈরি করা হয়, তাকে সাইলেজ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছাগল পালন করতে খুব কম পুঁজি, অল্প স্থান এবং সামান্য খাবারের প্রয়োজন হয়। একটি গাভি ক্রয় ও লালন-পালন করা দরিদ্র মানুষের পক্ষে বেশ ব্যয়বহুল, কিন্তু খুব সহজেই সামান্য খরচে ছাগল পালন করে দুধ ও মাংস পাওয়া যায় এবং এদের বিক্রি করে দ্রুত নগদ অর্থ উপার্জন সম্ভব হয়। দরিদ্র মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষায় গাভির মতোই ভূমিকা রাখে বলে ছাগলকে 'গরিবের গাভি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র ১-এর প্রাণীটি হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাতের 'ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল'। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. দেহের গঠন: এদের শরীর তুলনামূলকভাবে ছোট, আঁটসাঁট ও খাটো। দেহের রঙ সাধারণত কালো হয়, তবে বাদামি বা সাদা রঙেরও হতে পারে। কান ও শিং ছোট এবং খাড়া থাকে।
২. প্রজনন ক্ষমতা: এরা খুব দ্রুত প্রজননক্ষম হয় এবং বছরে সাধারণত দু'বার বাচ্চা দেয়। প্রতিবারে ২ থেকে ৪টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে থাকে।
৩. চামড়া ও মাংসের মান: এদের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এদের চামড়া বিশ্বখ্যাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে সমাদৃত।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে এরা চমৎকারভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র ১ হলো 'ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল' এবং চিত্র ২ হলো 'যমুনপারি ছাগল'। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক দিক বিবেচনায় চিত্র ১-এর ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করাই অর্থনৈতিকভাবে অধিক লাভজনক।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও মতামত:
১. প্রজনন ও উৎপাদন ক্ষমতা: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল খুব দ্রুত প্রজননক্ষম হয় এবং বছরে দুবার ২ থেকে ৪টি করে বাচ্চা দেয়। অন্যদিকে যমুনপারি আকারে বড় হলেও প্রজনন হার ব্ল্যাক বেঙ্গলের চেয়ে কম এবং সচরাচর ১-২টি বাচ্চা দেয়।
২. রোগবালাই ও পরিবেশ অভিযোজন: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল আমাদের দেশের জলবায়ুর সাথে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে চলে এবং এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল। যমুনপারি মূলত ভারতীয় জাত হওয়ায় এদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় এরা বিভিন্ন রোগে সহজে আক্রান্ত হয় এবং অধিক যত্নের প্রয়োজন হয়।
৩. খাদ্যের ব্যয় ও সহজ ব্যবস্থাপনা: ব্ল্যাক বেঙ্গল খুব সাধারণ ঘাস, লতাপাতা খেয়েও বেঁচে থাকে ও বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে, যমুনপারি আকারে বড় হওয়ায় এদের পেছনে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ তুলনামূলক বেশি খরচ হয়।
৪. পণ্যের বাজারমূল্য: ব্ল্যাক বেঙ্গলের মাংস অত্যন্ত নরম ও সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা ও বাজারমূল্য বেশি। এছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গলের চামড়া আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে এটি কৃষকের জন্য দ্রুত মুনাফা নিশ্চিত করে।অতএব, বাংলাদেশের প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ অর্জনের জন্য চিত্র ১-এর ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন অর্থনৈতিকভাবে অধিক লাভজনক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও