‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

“ওরা আমার মুখের কথাকাইড়া নিতে চায়।ওরা কথায় কথায় শিকল পরায়আমার হাতে পায়।”

  1. ক)

    পাকিস্তানের সংবিধান রচিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

    (1)
  2. খ)

    তমদ্দুন মজলিশ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কবিতাটি তোমার পাঠ্যবইয়ের উল্লিখিত কোন আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম ধাপ- তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তমদ্দুন মজলিশ হলো ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন।\n\nদেশভাগের পরপরই এ সংগঠনটি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রথম সাংগঠনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?' পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সূচনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত গড়ে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কবিতাটি পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।\n\n১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বাঙালির মায়ের ভাষাকে কেড়ে নেওয়া এবং তাদের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার মাধ্যমে এক প্রকার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরাধীনতার শিকল পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।\n\nউদ্দীপকের চরণেও পাকিস্তানি শোষকদের এহেন আধিপত্যবাদী আচরণের প্রকাশ ঘটেছে, যেখানে বলা হয়েছে—"ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়। ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়।" মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়ার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধেই ১৯৫২ সালে বাঙালি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ভাষা আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল মূলত বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম সোপান বা মূল ভিত্তি। মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।\n\nভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:\n\n১. অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ: পাকিস্তান সৃষ্টির ভিত্তি ছিল দ্বিজাতিতত্ত্ব। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ধর্মের পরিবর্তে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত্তিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।\n\n২. পরবর্তী আন্দোলনের প্রেরণা: ভাষা আন্দোলনের সফলতাই বাঙালিকে পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।\n\n৩. স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা: ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরেই ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি উত্থাপিত হয়, যাকে বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। এরপর ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় চূড়ান্ত স্বাধীনতা।\n\nসুতরাং, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি প্রথম উপলব্ধি করে যে অধিকার আদায়ে রক্তদানের কোনো বিকল্প নেই। তাই নিঃসংশয়ে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনই ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম ধাপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন