ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মিন্দানাও ফিলিপাইনের মূল ভূখণ্ড থেকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ। দেশের উভয় অঞ্চলের মধ্যে বেশ দূরত্ব। এ অবস্থায় মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সরকার মিন্দানাওয়ের জনগণকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। এতে মিন্দানাওয়ের বিক্ষুব্ধ জনগণ সংসদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব, আলাদা মুদ্রা ব্যবস্থা ও নিজস্ব আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের তিন দফা দাবি তোলে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের প্রতি আরও কঠোরতা প্রদর্শন করে।
- ক)(1)
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে কোন অঞ্চলের প্রাধান্য ছিল?
- খ)(2)
পাকিস্তান সরকার আরবি হরফে বাংলা লেখার পায়তারা করেছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মিন্দানাওয়ের ভৌগোলিক অবস্থানের সাথে পাকিস্তানের কোন প্রদেশের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত তিন দফা দাবির আলোকে বাঙালির ছয় দফা দাবি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তান অঞ্চলের (বিশেষত পাঞ্জাবি ও পাঠানদের) প্রাধান্য ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবোধকে ধ্বংস করে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পাকিস্তান সরকার আরবি হরফে বাংলা লেখার অপচেষ্টা বা পায়তারা করেছিল।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর শাসকগোষ্ঠী উপলব্ধি করে যে ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে বাঙালিরা সম্পূর্ণ আলাদা। তাই ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তারা ইসলামীকরণের নামে বাংলা ভাষাকে বিকৃত করার কৌশল নেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা ধ্বংস করে বাঙালিদের অনুগত প্রজা হিসেবে রাখা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মিন্দানাও প্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রদেশের অবস্থানের স্পষ্ট সামঞ্জস্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিন্দানাও ফিলিপাইনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং তাদের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক বেশি। একই সাথে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, রাজধানী ও ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে, যা থেকে পূর্ব পাকিস্তান ছিল প্রায় বারো শত মাইলের বেশি দূরত্বে অবস্থিত একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড। মাঝখানে ছিল সম্পূর্ণ বৈরী দেশ ভারত। এই বিশাল ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কেন্দ্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণই চালানো হয়নি, বরং যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষার দিক থেকেও অঞ্চলটি ছিল সম্পূর্ণ অবহেলিত ও অরক্ষিত। উদ্দীপকের বিচ্ছিন্ন মিন্দানাওয়ের সাথে এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও শোষণের দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের হুবহু মিল বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিন্দানাওয়ের তিন দফা দাবি মূলত বাঙালির মুক্তির সনদ ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবির প্রতিফলন।
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার শিকার হয়ে মিন্দানাওয়ের জনগণ সংসদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব, আলাদা মুদ্রা ব্যবস্থা ও নিজস্ব আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবি তোলে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
ছয় দফার সাথে উদ্দীপকের দাবির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১. উদ্দীপকের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবির মতো ছয় দফার ১ম দফায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে আইন পরিষদ গঠনের দাবি ছিল।
২. উদ্দীপকের আলাদা মুদ্রা ব্যবস্থার দাবির প্রতিফলন দেখা যায় ছয় দফার ৩য় দফায়, যেখানে দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা অথবা পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল।
৩. উদ্দীপকের আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবির অনুরূপ ছয় দফার ৬ষ্ঠ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য আধা-সামরিক বা প্যারামিলিশিয়া বাহিনী গঠনের দাবি জানানো হয়েছিল।উদ্দীপকের তিন দফা দাবির মতোই বাঙালির ছয় দফা ছিল বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবাদ। এর জবাবে পাকিস্তান সরকারও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে কঠোর দমননীতি চালায়। সুতরাং, উদ্দীপকের তিন দফা দাবি বাঙালির ঐতিহাসিক ছয় দফার মূল সুরকেই সার্থকভাবে প্রতিফলিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও