ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আবছার সাহেব চিলমারী নামক পৌর অঞ্চলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে জনগণের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি করার জন্য কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে কিছু কিছু নিয়োগকৃত কর্মকর্তা মেয়রের নিকটতম আত্মীয় ছিল। কিছুদিন পর মেয়রবিরোধী কিছু ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও স্বজনপ্রীতিসহ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে গোলযোগকারীরা মেয়রের বাসভবন ঘেরাও করে তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। এতে এলাকায় গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
- ক)(1)
'ফারুক' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
মজলিশ-উস-শুরা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হত্যাকান্ডের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন খলিফার হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উক্ত খলিফার হত্যাকাণ্ডের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী'- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ফারুক' শব্দের অর্থ সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী বা পার্থক্যকারী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মজলিশ-উস-শুরা' হলো খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ।
ইসলামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে খলিফাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য এটি গঠিত হয়েছিল। বিশিষ্ট ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবিদের সমন্বয়ে গঠিত এ পরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী খলিফাগণ গণতান্ত্রিক উপায়ে শাসনকাজ পরিচালনা করতেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হত্যাকাণ্ডের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে।
হজরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতের শেষার্ধে তাঁর বিরুদ্ধে আত্মীয়পোষণ বা স্বজনপ্রীতি, সরকারি অর্থ অপচয় প্রভৃতি অসত্য অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বিশেষ করে উমাইয়া বংশের কিছু যোগ্য ব্যক্তিকে বিভিন্ন প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় বিরোধী পক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে বিদ্রোহীরা তাঁর বাসভবন অবরোধ করে এবং তাঁকে অত্যন্ত নির্মমভাবে কুরআন পাঠরত অবস্থায় হত্যা করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, চিলমারী পৌরসভার মেয়র আবছার সাহেব প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে কিছু আত্মীয়কে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দিলে বিরোধী পক্ষ স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং তাঁর বাসভবন ঘেরাও করে তাঁকে হত্যা করে। এ ঘটনাটি হজরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হজরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডের ফলাফল ইসলামি ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক ছিল—উক্তিটি যথার্থ।
হজরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ড ইসলামি খেলাফতের সংহতি ও ঐক্যের মূলে চরম আঘাত হানে। এর ফলেই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রথম অনৈক্য, বিভেদ ও গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর ধারাবাহিকতায় হজরত আলী (রা.) এবং হজরত মুয়াবিয়ার (রা.) মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে উটের যুদ্ধ (জঙ্গে জামাল) এবং সিফফিনের যুদ্ধের রূপ নেয়।
হত্যাকাণ্ডের সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়াস্বরূপ মুসলিম জাতির মধ্যে শিয়া, খারেজি ও সুন্নি সম্প্রদায়ের বিভক্তি চিরস্থায়ী রূপ ধারণ করে। ইসলামে গণতান্ত্রিক খেলাফতের ধারা ব্যাহত হয় এবং পরবর্তীতে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের (উমাইয়া খেলাফত) উত্থান ঘটে। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টির মতে, এ হত্যাকাণ্ড ইসলামের ইতিহাসে গৃহযুদ্ধের দ্বার উন্মোচন করেছিল, যা আর কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উদ্দীপকে যেমন মেয়রের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়, তেমনই হজরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাত মুসলিম জাহানকে এক দীর্ঘস্থায়ী সংকট ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও