‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৬ জুন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ শেতাঙ্গ ডাচদের জার্মানডাচ ভাষায় শিক্ষাদান বাধ্যতামূলক করলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। এর প্রতিবাদে তারা তাদের মাতৃভাষা জুলুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রতিবাদ সভাও ডাকে। তৎকালীন বর্ণবাদী সরকার প্রতিবাদ সভায় যোগ দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালালে শতাধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় এদিনটি বিশেষ মর্যাদায় পালিত হয়।

  1. ক)

    কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ঢাকার কোন স্থানে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষার্থীদের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের ভাষা আন্দোলনের কোন শ্রেণির কাজের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    ভাষা আন্দোলন পরবর্তী বিভিন্ন আন্দোলনে তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা ও ভাষার জন্য জীবনদানকারীদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী যে দিবস পালিত হয়, তা-ই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।\n\n১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) বাংলাদেশের ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের সকল দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের বহুভাষাবাদ ও নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণের চেতনা সমুন্নত রাখা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষার্থীদের সাথে পাঠ্যবইয়ের ভাষা আন্দোলনের অকুতোভয় 'ছাত্রসমাজের' কাজের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।\n\n১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পাকিস্তানি পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ছাত্র-যুবকরা শহিদ হন।\n\nউদ্দীপকেও দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ১৯৭৬ সালে ডাচ ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাদের মাতৃভাষা জুলুকে প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামে এবং বর্ণবাদী সরকারের গুলিতে শতাধিক শিক্ষার্থী শহিদ হন। দুই ক্ষেত্রেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ছাত্রসমাজের অগ্রণী ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও শহিদ হওয়ার ঘটনার মাঝে নিখুঁত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাষা আন্দোলনের পর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় গণআন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য ও পথপ্রদর্শকের মতো। নিচে তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:\n\n১. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন (১৯৫৪): ভাষা আন্দোলনে বিজয়ী ছাত্রসমাজ ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন ও নির্বাচনী বিজয়ে নেতৃত্ব দেয়।\n\n২. শিক্ষা আন্দোলন (১৯৬২): শরীফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিক্রিয়াশীল নীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সফল গণআন্দোলনে রূপ দেয়।\n\n৩. ৬ দফা আন্দোলন ও ১১ দফা কর্মসূচি (১৯৬৬-১৯৬৯): বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফার সমর্থনে ছাত্ররা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে, যা আন্দোলনকে বেগবান করে।\n\n৪. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান: আসাদ ও সার্জেন্ট জহুরুল হকের মতো ছাত্র ও যুবকদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি করে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটায় এবং বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে।\n\n৫. মহান মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১): ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে মুজিব বাহিনী ও নিয়মিত বাহিনীতে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করে।\n\nঅতএব, ভাষা আন্দোলন পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে বাঙালি ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয় ও অনন্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন