কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

রাহাত তার বাবার সাথে বাজারে গিয়ে দেখল যে, একজন মাছ ব্যবসায়ীর ঝুড়িতে বরফের স্তরে স্তরে মাছ সাজানো আছে। রাহাত বরফের স্তরে এভাবে মাছ সাজানোর কারণ জানতে চাইল। এ বিষয়ে তার বাবা বললেন, এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করে রাখা যায় যাতে মাছগুলো পচে নষ্ট না হয়। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে একস্থান থেকে অন্যস্থানে মাছ সহজেই স্থানান্তর করা যায়।

  1. ক)

    একুয়াকালচার কী?

    (1)
  2. খ)

    রোগাক্রান্ত মাছ কীভাবে চেনা যায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের পরিকল্পিত উৎপাদন ও প্রতিপালন প্রক্রিয়াকে অ্যাকুয়াকালচার (Aquaculture) বা জলজ চাষ বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রোগাক্রান্ত মাছের আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজেই তা চেনা যায়। যেমন:
    ১. মাছের চলাফেরা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, দলছুট হয়ে পানির উপরিভাগে এসে খাবি খায় বা অস্বাভাবিকভাবে ভেসে থাকে।
    ২. গায়ের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়, আঁইশ ঝরে পড়ে এবং পাখনা ও ফুলকায় ক্ষত, দাগ বা তুলার মতো ছত্রাকের আস্তরণ দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হলো বরফায়ন বা বরফ প্রয়োগ পদ্ধতি (Chilling with ice)।

    মাছ ধরার পরপরই পচনরোধে এবং সতেজতা বজায় রাখতে এই স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করা হয়:
    ১. মাছ ও বরফের অনুপাত: সাধারণত ১:১ অনুপাতে গুঁড়া বরফ ও মাছ ব্যবহার করা হয় (গ্রীষ্মকালে বরফের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হয়)।
    ২. স্তরায়ন: ঝুড়ি, প্লাস্টিক বা কর্কশিটের পাত্রের তলদেশে প্রথমে বরফের একটি স্তর দেওয়া হয়। তারপর মাছের স্তর এবং পুনরায় বরফের স্তর সাজিয়ে পুরো পাত্র পূর্ণ করা হয় এবং সবার ওপরে বরফের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
    ৩. কার্যকারিতা: বরফ গলনের মাধ্যমে তাপমাত্রা প্রায় ০° সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি নেমে আসে, যা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ও মাছের নিজস্ব এনজাইমের ক্ষতিকর কার্যক্রমকে স্তিমিত রাখে। এর ফলে মাছ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পচনের হাত থেকে রক্ষা পায় ও টাটকা থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি (বরফায়ন) বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং সময়োপযোগী। নিচে এর পক্ষে মতামত উপস্থাপন করা হলো:

    ১. সহজপ্রাপ্য ও সাশ্রয়ী: বাংলাদেশে বরফকলগুলো প্রায় সব উপকূলীয় ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং স্থানীয় বাজারের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে জেলেরা ও ব্যবসায়ীরা কম খরচে বরফ সংগ্রহ করতে পারে।
    ২. সতেজতা ও গুণগত মান বজায় রাখা: বরফায়ন পদ্ধতিতে মাছের স্বাদ, গন্ধ, পুষ্টিমান এবং বাহ্যিক গঠন দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে, যা অন্যান্য পদ্ধতির (যেমন শুঁটকিকরণ বা লবণাক্তকরণ) তুলনায় সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।
    ৩. দূরবর্তী বাজারে পরিবহন: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ হলেও মাছের প্রধান আহরণ কেন্দ্রগুলো (যেমন- হাওর, নদী ও উপকূল) থেকে প্রধান প্রধান নগরীর দূরত্ব অনেক। বরফ দিয়ে সাজিয়ে সহজেই ট্রাক বা ট্রেনে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে মাছ বাজারজাত করা যায়।
    ৪. দ্রুত প্রয়োগযোগ্যতা: বিদ্যুৎহীন বা তাৎক্ষণিক বড় কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা না থাকলেও সহজেই ঝুড়ি, ককশিট বা ইনসুলেটেড বক্সে বরফ দিয়ে সাময়িকভাবে মাছ নিরাপদে রাখা যায়।

    সুতরাং, মাছের পচনজনিত অপচয় রোধ, নিরাপদ বাজারজাতকরণ এবং মৎস্যজীবীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় বরফায়ন পদ্ধতি সর্বাধিক কার্যকর ও বাস্তবসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন