ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সরাইল উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বহু বছর ধরে সামাদ পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি কদম আলী পরিবার ভাগ্যান্বেষণে সরাইলে এসে বসতি স্থাপন করে। কদম আলীর সহজ-সরল জীবনযাপন, সাহসিকতা, নীতি-নৈতিকতা, সত্যবাদিতা, বিচক্ষণতা ও চারিত্রিক মাধুর্য উপজেলাবাসীর নজর কাড়ে। ফলে নির্বাচনে সরাইল উপজেলার চেয়ারম্যান পদে কদম আলী বিপুল ভোটে। নির্বাচিত হন। তিনি উপজেলার অভাবনীয় উন্নয়ন করেন। উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা, সুশাসন, জননিরাপত্তা, বিচার ও সালিশ ব্যবস্থার। উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, রাজস্ব আদায়সহ সকল ক্ষেত্রে অসামান্য। উন্নয়ন করেন, যা ইতোপূর্বে অন্য কোনো চেয়ারম্যানই করতে পারেননি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আবার উপজেলা চেয়ারম্যানের পদটি সামাদ পরিবারের হাতে চলে যায়।

  1. ক)

    মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    বাবরনামা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কদম আলীর সাথে ভারতীয় উপমহাদেশে কোন আফগান শাসকের শাসন ক্ষমতা দখলের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কদম আলীর চেয়ে উক্ত আফগান শাসক প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আরও বেশি বিচক্ষণ ও দূরদর্শী ছিলেন- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হলেন জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বাবরনামা' (বা 'তুজুক-ই-বাবরি') হলো মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর কর্তৃক তাঁর মাতৃভাষা তুর্কি (চাগতাই তুর্কি) ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত আত্মজীবনী।

    এ গ্রন্থে বাবর তাঁর জীবনের চড়াই-উৎরাই, সামরিক অভিযান, ভারত বিজয়ের কাহিনী ছাড়াও তৎকালীন মধ্য এশিয়া ও ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অবস্থা, প্রকৃতি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবসম্মত ও প্রাঞ্জল বর্ণনা দিয়েছেন। এটি মুঘল ইতিহাসের অত্যন্ত প্রামাণ্য ও মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কদম আলীর সাথে ভারতীয় উপমহাদেশে সুর বংশীয় আফগান শাসক শেরশাহ সুরির শাসন ক্ষমতা দখলের মিল পাওয়া যায়।

    শেরশাহ (ফরিদ খাঁ) কোনো রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেননি। তিনি নিজ প্রতিভা, সাহস, বিচক্ষণতা ও সামরিক দক্ষতার গুণে একজন সাধারণ সৈনিক ও জায়গিরদার থেকে ধীরে ধীরে বিহারের শাসনকর্তা এবং পরবর্তীতে দিল্লির সিংহাসন দখল করেন। তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে চৌসার (১৫৩৯) ও কনৌজের (১৫৪০) যুদ্ধে পরাজিত করে দিল্লিতে দ্বিতীয় আফগান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই উত্থান ছিল মূলত ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার ফল।

    উদ্দীপকের কদম আলীও ঐতিহ্যবাহী পরিবারকে পরাজিত করে তার সততা, নীতি-নৈতিকতা, বিচক্ষণতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে সরাইল উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শেরশাহ যেভাবে মুঘলদের স্থান দখল করে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করেন, কদম আলীর ক্ষমতা দখলও তারই প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কদম আলীর স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের তুলনায় শেরশাহ সুরির প্রশাসনিক সংস্কার ও দূরদর্শিতা ছিল এক যুগান্তকারী ও অনন্য অর্জন—উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকের কদম আলী স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তাঘাট, রাজস্ব ও সুশাসন নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু শেরশাহ সুরি মাত্র পাঁচ বছরের (১৫৪০-১৫৪৫) সংক্ষিপ্ত শাসনকালে গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি সাম্রাজ্যকে সরকার এবং পরগনায় বিভক্ত করে সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করান। বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং আইনের চোখে ধনী-গরিব সবাই সমান—এ নীতি বাস্তবায়ন করেছিলেন।

    শেরশাহের রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার ছিল কালজয়ী। তিনি জমি জরিপ করে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ওপর ন্যায্য কর নির্ধারণ করেন এবং 'কবুলিয়ত' ও 'পাট্টা' প্রথার প্রবর্তন করে কৃষকের ভূমিস্বত্ব নিশ্চিত করেন। যোগাযোগ ক্ষেত্রে তিনি গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (সড়ক-ই-আজম)-সহ বহু দীর্ঘ মহাসড়ক নির্মাণ করেন এবং প্রতি দুই ক্রোশ অন্তর ডাকচৌকি ও সরাইখানা নির্মাণ করে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তাঁর প্রবর্তিত রৌপ্য মুদ্রা 'রুপী' পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ও আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করে।

    অতএব, কদম আলীর উন্নয়ন কার্যক্রম একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও শেরশাহের প্রশাসনিক সংস্কার সমগ্র ভারতের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে মুঘল সম্রাট আকবরের প্রশাসনিক কাঠামোর পথপ্রদর্শক হয়েছিল। সুতরাং শেরশাহ কদম আলীর চেয়েও বহু গুণ বেশি বিচক্ষণ ও দূরদর্শী ছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন